হেমন্ত-সজীবের মতো হারিয়ে যেতে চান না নাজমুল

নাজমুল ইসলাম রাসেলের গল্পটা একটু ভিন্নরকমের। ফুটবলের পরশ পেয়েছেন শৈশবেই। ছিলেন বিকেএসপির ছাত্র। ফুটবলীয় পরিবেশে বড় হয়ে একের পর এক ধাপ পাড়ি দিয়েই জায়গা করে নিয়েছেন বয়সভিত্তিক দলে। প্রিমিয়ার লিগেও তার অভিষেক হয়েছে সেই ২০১৩ সালে। এবার পেশাদার লিগে ষষ্ঠ দল হিসেবে পুলিশ এফসিকে বেছে নিয়েছিলেন। যেটা তার জন্য সৌভাগ্যই বয়ে এনেছে। প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্পে।

অথচ ২০১৩ সাল থেকে প্রিমিয়ার লিগ খেলা নাজমুল এতদিন ছিলেন অনেকটা চোখের আড়ালেই। কোনও কোচের দৃষ্টি-ই পড়েনি তার দিকে। এবার হঠাৎ করেই সুনজরে চলে আসেন কোচ জেমি ডের। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ৩৬ জনের দলে অন্যতম নতুন মুখ তিনি। অনেকটা দেরিতে ডাক পেয়ে ২৫ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘আসলে আমি তো নিয়মিত মাঠে পারফরম্যান্স করে আসছি। যেই দলে খেলেছি, প্রায় সবগুলো ম্যাচেই মাঠে থাকার চেষ্টা করেছি। তবে কেন এতদিন ডাক পাইনি, তা বলতে পারবো না। হয়তো কোনও কোচের চোখে পড়িনি। এবার জেমি ডে দেখেছেন, তাই ডেকেছেন।’
তবে প্রথমবার ডাক পেয়েই টিকে থাকার সংকল্প এখন তার মাঝে। যদিও মূল দলে জায়গা পাওয়াটা নাজমুলের জন্য চ্যালেঞ্জিং। তার পজিশনে একাধিক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছেন। তবে জামাল-মাশুক-ফাহাদের সঙ্গে লড়াই করেই জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য তার, ‘আমার জায়গায় আগে থেকেই ভালো খেলোয়াড় আছেন। আমাকে জায়গা করে নিতে হলে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। তবে প্রথমবার ডাক পেয়ে মূল স্কোয়াডে জায়গা করে নেওয়ার চ্যালেঞ্জটা আমি নিচ্ছি।’

বিকেএসপিতে থাকা অবস্থাতেই নাজমুলের সতীর্থ ছিলেন হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস ও আমিনুর রহমান সজীব। তাদের সঙ্গে অনেক স্মৃতি রয়েছে তার। জাতীয় দলে খেলেছেন দুজনেই। হেমন্ত তো হল্যান্ডে গিয়ে ট্রায়ালও দিয়ে এসেছিলেন। দারুণ সম্ভাবনা জাগালেও দলে বেশিদিন টিকতে পারেননি। তবে সেইসময় সতীর্থদের জাতীয় দলে দেখে ভালোই লেগেছিল নাজমুলের। একই সঙ্গে তাদের দেখে জাতীয় দলে খেলার বাসনাও জেগেছিল তার মনে, ‘আমার আগে দুই সহপাঠীর জাতীয় দলে জায়গা হয়েছে। আমার তখন অনেক ভালোই লেগেছিল। একই সঙ্গে তখন আমার মনে হতো, যদি ওদের মতো জাতীয় দলে খেলতে পারতাম।’

এর পর থেকেই যেন এমন সংকল্পের ভীতটা আরও প্রগাড় হতে লাগলো। তাই ধীরে ধীরে পার হতে থাকলেন একেকটি সিঁড়ি। একই সঙ্গে দুই বন্ধুকে আবার হারিয়ে যেতেও দেখেছেন। তাই সতীর্থদের মতো হারিয়ে যেতে চান না নাজমুল, ‘ওরা জাতীয় দলে ঝঁলক দেখালেও বেশিদিন খেলতে পারেনি। একেক জন একেক কারণে বাদ পড়েছেন। আমি অবশ্য ওদের মতো হতে চাই না। ডিসিপ্লিন মেনে সব কিছু করছি। আসলে আমি টিকে থাকতে চাই, হারিয়ে যেতে চাই না।’

ক্যাম্পে ডাক পাওয়ায় তার জন্য ভালোই হয়েছে। জাতীয় দলে কেমন ধারার অনুশীলন হতে পারে, তার একটা ধারণা পাচ্ছেন। তবে এই অনুশীলন থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাইছেন নাজমুল, ‘কোচ নানান সময় হোয়াটসঅ্যাপে নিদের্শনা দিচ্ছেন। সেই অনুযায়ী অনুশীলন করছি।তবে এখন মুখিয়ে আছি ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার জন্য। সেখানকার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই, শিখতে চাই। যা ভবিষ্যতে আরও কাজে দেবে।’