শ্রীলংকার হুমকিতে বিচলিত নন মুমিনুল


আসন্ন টেস্ট সিরিজে পেস আক্রমণ দিয়ে বাংলাদেশকে ঘায়েল করার হুমকি দিয়ে রেখেছে স্বাগতিক শ্রীলংকা ক্রিকেট দল। তবে সেই হুমকিতে বিচলিত নন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক। বরং এ সফরে বাংলাদেশ দলের ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী টাইগার অধিনায়ক। নিজ মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে পাওয়া সাফল্য শ্রীলংকা সফরেও পেতে চান এবং আগুন দিয়ে আগুনের মোকাবিলা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মুমিনুল।

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ফরম্যাটে শ্রীলংকার সাফল্য চোখে পড়ার মতো। ২০ টেস্টে মুখোমুখি হয়ে ১৬টিতেই জিতেছে লংকানরা। ২০১৭ সালের সফরে শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। মুমিনুল বলেন, ‘শ্রীলংকার বিপক্ষে সাফল্যের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। আমাদের ব্যাটিং ও বোলিং বেশ শক্তিশালী এবং দু-বিভাগেই আমরা ভালো করতে পারব। টেস্টে আমাদের ফলাফল খুব বেশি ভালো নয়। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে আমরা ভালো করেছি, যা আমাদের শ্রীলংকায়ও অব্যাহত রাখতে আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে।’

নিজ মাঠে আসন্ন তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে স্পিনের পরিবর্তে পেস শক্তি দিয়ে বাংলাদেশকে ঘায়েল করার হুমকি দিয়ে রেখেছেন শ্রীলংকার প্রধান নির্বাচক ও দলীয় ম্যানেজার অসান্থা ডি মেল। নিজেদের কন্ডিশনে টেস্ট ম্যাচ জিততে সর্বদা স্পিনের উপর নির্ভর করে আসছে শ্রীলংকা। প্রতিপক্ষের স্পিন বোলিং গভীরতা ও সত্যিকার পেসের বিপক্ষে তাদের ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা বিবেচনায় মেল ধারণা করছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে গতির উপর নির্ভর করে নিজেদের কন্ডিশনে স্পিনের কৌশলে এখনই পরিবর্তন করার সময়। অবশ্য লংকান দলে ৩৮ বছর বয়সি স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরাও থাকতে পারেন।

সানডে আইসল্যান্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেল বলেন, ‘আমরা পেস দিয়ে তাদের হারাতে চাই। স্পিন দিয়ে নয়। বাংলাদেশের স্পিন অ্যাটাক দুর্দান্ত। তবে আমাদের ভালো মানের পেস অ্যাটাক রয়েছে। তাই আমাদের পেস শক্তিতে নির্ভর করা উচিত। আমরা স্কোয়াডে পাঁচজন পেসার রাখতে পারি, কোচরা এমনটাই ভাবছেন।’

তবে শ্রীলংকা কী বলছে বা কী পরিকল্পনা করছে, তা নিয়ে মোটেও ভাবতে চান না মুমিনুল। নিজ দলের খেলোয়াড়দের উপর বিশ্বাস রাখতে চান অধিনায়ক। তিনি জানান, টেস্ট সিরিজে ভালো করতে দল মরিয়া।

মুমিনুল বলেন, ‘শ্রীলংকা সফরে আমরা ভালো পারফরম্যান্স করতে পারি, দলের সবাই এটা বিশ্বাস করে। সবারই আত্মবিশ্বাস রয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে আমি নিশ্চিত যে, শ্রীলংকা থেকে আমরা ভালো ফল নিয়ে আসব। শ্রীলংকা যা বলছে, তা আমার মাথাব্যথার বিষয় নয়। তারা অবশ্যই তাদের পরিকল্পনা করবে কিন্তু আমাদের সেরা খেলাটা নিশ্চিত করতে হবে। নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে আমাদের ভালো সুযোগ রয়েছে।’

সিরিজের সূচি এখনো ঘোষণা করেনি শ্রীলংকা ক্রিকেট। কিন্তু আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর শ্রীলংকার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আশা করছে বাংলাদেশ।

তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি ক্যান্ডিতে আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে শুরু হতে পারে। তবে পালেস্নকেলেতে দুটি টেস্ট খেলার পরিকল্পনা করছে শ্রীলংকা। কারণ সেখানকার পিচ পেসারদের সহায়তা করে থাকে। আর শেষ টেস্টটি হতে পারে কলম্বোতে।