শিবচরে ভাড়াটিয়ার রডের আঘাতে বাড়িওয়ালা নিহত

শিবচর পৌরসভার গুয়াতলা এলাকায় ভাড়াটিয়ার রডের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে বাড়িওয়ালা ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে আহত আবু আলম আকন মারা যান। নিহতের স্ত্রী নারগিস বেগম স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, নিহত আবু আলমের ৩তলা বাড়ির নিচতলায় ওই ভবনের সামনের বাসিন্দা মায়া বেগম দীর্ঘ প্রায় ৩ বছর যাবৎ ভাড়া থাকেন। মায়া বেগম ও তার পরিবারের উশৃঙ্খল চলাচলে বাড়িওয়ালা আবু আলম আকন দীর্ঘ দিন ধরেই বাড়ি ছেড়ে দিতে তাকে নোটিশ দেন। কিন্তু ভাড়াটিয়া কিছুতেই বাড়ি ছেড়ে যেতে চাননি। এরই জেরধরে গত সোমবার দুপুরে (২৪ আগস্ট) বাড়িওয়ালা আবু আলম আকন এর সাথে ভাড়াটিয়া মায়া বেগমের বাগবিতন্ডা হয়। এক পর্যায় ভাড়াটিয়া মায়া বেগমের ভগ্নিপতি বিপ্লব মিয়ার নেতৃত্বে ৬/৭ জনের একটি দল বাড়িওয়ালা আবু আলম আকন ও তার পরিবারের ওপর হামলা চালায়। তাকে মারধরসহ বুকে রড দিয়ে আঘাত করে। বুকে রডের আঘাতে এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পরে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করেন। ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর হৃদরোগ ধরা পরে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার বুকে রিং পরান। দুইদিন চিকিৎসার পরও অবস্থা অবনতি হলে বৃহস্পতিবার রাতে (২৭ আগস্ট) চিকিৎসাধীন আবু আলম আকন মারা যান।

নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানান, বাড়ি ভাড়া নিয়ে তাদের মাঝে মাঝেই ঝগড়া বিবাদ হতো। গত সোমবার দুপুরে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার সাথে ঝগড়া বিবাদ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে বাড়িওয়ালা আবু আলম আকন গুরুতর আহত হয়।

শিবচর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালার মধ্যে একটা ভাড়া নিয়ে মারামারি ঘটনা ঘটেছে। মারামারির ঘটনায় শিবচর থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই ঘটনায় বাড়িওয়ালা আবু আলম আকন আহত হন। তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। তার হৃদরোগজনিত কারণে বুকে রিং পরানো হয়। একদিন পর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।