রোহিঙ্গা ইস্যুতে কৌশলী অবস্থান থেকে সরে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ভারত !

রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রধান উন্নয়ন সহযোগী চীন সরাসরি মায়ানমারের পক্ষে থাকলেও প্রধান মিত্র শক্তি ভারতের অবস্থান ছিলো কৌশলী । চীন ভারত দুই দেশের ব্যাপক বিনিয়োগ রয়েছে মায়ানমারে। তাছাড়া চীন তাদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে মায়ানমারে বিপক্ষে যান না । রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন তাদের আগের অবস্থান থেকে এখনো সরে না আসলেও প্রতিবেশী ভারত তাদের কৌশলী অবস্থান থেকে সরে এসে সরাসরি বাংলাদেশের পক্ষে নেবে কিনা তা নিয়ে জোর গুঞ্জন রয়েছে দু দেশের কুটনৈতিক মহলে।

আগামী সপ্তাহ ভারতে পরারাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধণ শ্রিংলা মায়ানমার সফরে যাচ্ছেন বলে ভারতের প্রভাবশালী প্রত্রিকা দ্যা হিন্দু সুত্রে জানা গেছে। সফরকালে তিনি মায়ানমারের সরকারে একাধিক উচ্চ পদস্থ ব্যাক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে এই সফরের সময় শ্রিংলা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মায়ানমারকে চাপ দেবে।
কুটনৈতিক সূত্র বলছে, শ্রিংলা যদি এই সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে মায়ানমারকে চাপ দেয় তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চলমান বন্ধত্বপূর্ণ সর্ম্পক আরো জোরদার হবে। এখন দেখার বিষয় শ্রিংলা মায়ানমারে গিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে মায়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত সরকারের অবস্থান পরিস্কার করেন কিনা।
উল্লেখ্য ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা সম্প্রতি ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে। ঐ সময় পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, আগামী বছর জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে ভারত নিরাপত্তা পরিষদে বসবে। সেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়। আমাদের একটি উদ্বেগের বিষয় আছে। তা হলো রোহিঙ্গা ইস্যু। অতীতে আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, যাতে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস করা যায়। কিছু স্থায়ী সদস্যের এই ব্যাপারে আপত্তির কারণে আমরা করতে পারিনি। আমরা ভারতের কাছে সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছি।
জানা গেছে, ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারত সরকার চায় রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যাক। এই ইস্যুতে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে ভারত বাংলাদেশের পক্ষ থাকার কথা শোনা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ, মিয়ানমার দুই দেশের সঙ্গেই ভারতের সীমান্ত ও নিবিড় সম্পর্ক আছে। তবে ভারত সব সময় বলে আসছে তার ‘প্রতিবেশীই প্রথম’ নীতিতে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন রাশিয়ার মতো সরাসরি মায়ানমারের পক্ষে না থাকলেও ভারতে অবস্থান ছিলো কৌশলী । গত তিন বছল ধরে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন ফোরামে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত‘হ্যাঁ বা না ভোট না দিয়ে অ্যাবস্টেইন (কারো পক্ষে ভোট না দেওয়া) ভোট দিয়ে কৌশলী অবস্থানে ছিলো।
তবে শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিলো প্রতিবেশী হিসেবে রোহিঙ্গা সস্যা সমাধানে ভারত থেকে সক্রিয় সমর্থন পাবে। কিন্তু ভারতের অবস্থান রীতিমতো অবাক করেছে বাংলাদেশের নীতি নির্ধারকদের। নিজেকে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু বলে দাবি করলেও ভারতের কৌশলী অবস্থান অনেকটা বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়।
কুটনৈতিক সুত্র গুলো বলছেন, মায়ানমারের ওপর থেকে চীনের প্রভাব কমানোর জন্য ভারত মায়ানমারকে সামরিক সহযোগীতা দিচ্ছে। একের পর এক সামরিক চুক্তি করে মিয়ানমারকে হাতে রাখতে চায় ভারত। এর পাশাপাশি বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে চাপে রাখতে চায় দিল্লী। কারণ ভারত দিল্লী স্বীকার করুক আর না করুক বাংলাদেশ একচেটিয়া চীনের প্রভাব ভারতের ‘মাথা ব্যথার’ কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগীতার পাশাপাশি চীন বাংলাদেকৈ সামরিক সহযোগীতাও করছে। এই অবস্থার মধ্যে ভারত কি আদৌ বাংলাদেশ কাছে টানার জন্য রোহিঙ্গা ইস্যুকে তার কৌশলী অবস্থান থেকে সরে ঢাকার পাশে থাকবে । এই নিয়ে জোর গুঞ্জন রয়েছে দু-দেশের ক‚টনৈতিক মহলে ।