রায়হান কবিরের গ্রেপ্তারের নিন্দা আল-জাজিরাসহ ২২ সংগঠনের

অভিবাসীদের প্রতি মালয়েশিয়ান সরকারের ‘অবিচারের’ কথা তুলে ধরা বাংলাদেশের সেই রায়হান কবিরকে গ্রেপ্তার করায় দেশটির প্রশাসনের সমালোচনা করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। এই সংবাদমাধ্যমের একটি প্রামাণ্যচিত্রে নিজের মতামত তুলে ধরেই ফেঁসে যান নারায়ণগঞ্জের ছেলে রায়হান।

আল-জাজিরার পাশাপাশি বাংলাদেশের ২১টি সংগঠন দ্রুততম সময়ে রায়হানের মুক্তির দাবি করেছে। শনিবার যৌথভাবে বিবৃতি দেওয়া এই সংগঠনগুলো অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে থাকে।

আল-জাজিরা নিজেদের টুইটারে লিখেছে, ‘বাংলাদেশি অভিবাসী রায়হান কবিরের গ্রেপ্তারের ঘটনা গোলমেলে ব্যাপার।’

‘তিনি প্রামাণ্যচিত্রে কথা বলার জন্য অনলাইনে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তাকে উদ্দেশ্য করে বিদ্বেষমূলক কথা ছড়ানো হয়েছে। কথা বলার দায়ে এভাবে অপরাধী বানানোকে কখনোই আমরা সমর্থন করি না। ’

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার’র প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, টানা দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তৎপরতার পর শুক্রবার রায়হান কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রায়হান যাতে আর কখনো মালয়েশিয়ায় যেতে না পারেন, সেজন্য তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে বলেও শনিবার জানিয়েছেন দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক খায়রুল দায়াইমি দাউদ।

রায়হান কী বলেছিলেন: ‘‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়া’স লকডাউন’’ শিরোনামের প্রামাণ্যচিত্রে শুধু বাংলাদেশ নয়, আরো কয়েকটি দেশের অভিবাসীরা নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রায় ২৬ মিনিটের ভিডিওটিতে সাড়ে পাঁচ মিনিটের দিকে রায়হান কবিরকে দেখা যায়।
ভয়েস ওভারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির চোয়াক জেলায় থাকেন রায়হান। উপস্থাপককে নিজের মোবাইলে একটি ভিডিও দেখান তিনি। সেই ভিডিওতে মালয়েশিয়ান প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপের দৃশ্য ছিল। দেখা গেছে, ৬০০ মানুষকে তারা ট্রাকে করে অন্য কোথাও নিয়ে যাচ্ছেন।

রায়হানের অভিযোগ, ‘তারা আমাদের ফাঁদে ফেলেছে। ওষুধ, খাবারসহ সবকিছু দিয়েছে। কিন্তু কেউই বুঝতে পারেনি গ্রেপ্তার করা হবে। তারা খুনি নয়, সন্ত্রাসী নয়। শুধু কাগজপত্রহীন অভিবাসী।’

রায়হানের অবশ্য কাগজপত্রের সমস্যা ছিল না। বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিয়েই দেশটিতে ছিলেন। তবে হৃদয় নামে তার এক বন্ধুর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পুলিশ তাকে আরও আগে ধরে নিয়ে যায়।

আল-জাজিরাকে রায়হান বলেন, ‘ আমার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু দোষ তার নয়। তার কোম্পানি ভিসা নবায়ন করেনি। আমি ইমিগ্রেশনে গিয়েছি, পুলিশের কাছে গিয়েছি। আমার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গেটে কান্নাকাটি করেছি।’

ভিডিওতে আরেক বাংলাদেশির কথা বলা হয়েছে, যিনি ২০ বছর ধরে দেশটিতে আছেন। উপস্থাপককে নিয়ে রায়হান তার কাছে যান। লকডাউনের সময় তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। রায়হান ইংরেজিতে কথা বললেও ওই ব্যক্তি বাংলায় নিজের দুর্দশার বর্ণনা দেন।