ম্যানসিটিতে মেসির জন্য সাজানো হচ্ছে বরণডালা

বড়জোর আরও সপ্তাহখানেক, এরপরই হয়তো মিটে যাবে সব ঝামেলা। যদি টানাপোড়েন লেগেও থাকে, তবু লিওনেল মেসিকে বোধহয় আটকানো যাবে না। এর মধ্যে ব্যাগ গুছিয়ে ঠিকই ইতিহাদের উদ্দেশে রওনা করবেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। এখন পর্যন্ত যা অবস্থা, তাতে দু’পক্ষই সমাধানের পথে এগোতে শুরু করল। বার্সা প্রেসিডেন্ট বার্তামেউরও বরফ গলা শুরু হয়েছে। মেসির বাবার সঙ্গে আলোচনা করার জন্য সম্মত হয়েছেন তিনি।

এদিকে ম্যানচেস্টার সিটিও বসে নেই। এই সময়কার অন্যতম সেরা ফুটবলারকে বরণ করতে শুরু করেছে প্রস্তুতি। স্প্যানিশ দৈনিক স্পোর্ত বলছে, মেসিকে কিনতে অর্থের জোগানটা ঠিক করে ফেলেছে সিটিজেনরা। আর মেসির জন্য চমকপ্রদ একটা ভিডিওগ্রাফি রেডি করতেও বলা হয়েছে। যেখানে ফুটিয়ে তোলা হবে তার পুরো ক্যারিয়ারের বর্ণিল চিত্রটা। ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক মার্সেলো বেকলারও এক টুইট বার্তায় এমনটা জানিয়েছেন।

সব চোখ বুধবারের বৈঠকে: দিন দুয়েক আগে লিওনেল মেসির পক্ষ থেকে মিটিংয়ে বসার জন্য বার্সা বোর্ডকে আহ্বান করা হয়। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো রিপ্লাই আসেনি। দেরিতে হলেও তারা রাজি হলো। এই বৈঠকে মেসি সরাসরি উপস্থিত থাকবেন না। তার পক্ষ থেকে মেসির বাবা জর্জে থাকবেন বার্তামেউর আলোচনার টেবিলে। সেখানেই হয়তো সুরাহা হবে মেসি কীভাবে যাবেন বা কীভাবে যেতে হবে। মূলত আইনি যে ঝামেলা, সেটা মিটমাট করতেই এই মিটিংয়ে বসা। সেক্ষেত্রে মিটিং ফলপ্রসূ হলে মেসির যাওয়াও সময়ের ব্যাপার হয়ে যাবে।

এসব বিবেচনায় আনলে বুধবারের মিটিং ফুটবল দুনিয়ার জন্য একটু স্পেশাল। আর যদি সমাধানে না পৌঁছা যায় তাহলেও খুলতে পারে নতুন দুয়ার। সেটা হলো আদালত। তাই সবার চোখ থাকবে বুধবারের ওই মিটিংয়ের দিকে। এই মুহূর্তে দু’পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে অনড়। মেসির আইনজীবী বলছেন, লিও যে সময় বার্সাকে বুরোফ্যাপে ‘না’ বলল, সেটা উপযুক্ত ছিল। করোনার কারণে পুরোনো শর্তটা কাজে লাগার কথাও নয়।

অন্যদিকে বার্সার যুক্তি, নিয়ম অনুযায়ী মেসিকে জুনের ১০ তারিখের মধ্যে জানানোর কথা ছিল, কিন্তু তিনি সেটা করেননি। তাই পুরো রিলিজ ক্লজের ৭০০ মিলিয়ন ইউরো না দিয়ে যাওয়া যাবে না। এদিকে মিটিংয়ে যদি কোনোরকম সুরাহা না হয়, বিষয়টি গড়াতে পারে আদালত পর্যন্ত। আইন অনুযায়ী আদালতে বার্সা নয়, মেসিই দিন শেষে জিতবেন। যেমনটা বলছে স্পেনের একদল আইনজীবী। তা ছাড়া আরেকটি মাধ্যম বলছে, মেসির সঙ্গে বার্সার সর্বশেষ চুক্তিতে তিন বছর পর কোনো রিলিজ ক্লজ থাকবে না বলেও জানানো হয়। সে অনুযায়ী মেসি তিন মৌসুম খেলেও ফেলেছেন, তাই চাইলেই ফ্রিতে নতুন ক্লাবে যোগ দিতে পারবেন। ইএসপিএন সূত্র বলছে, আইন অনুযায়ী মেসির ফ্রিতে ক্লাব ছাড়ার একটাই পথ, সেটা হলো তাকে কথা দিতে হবে পরের মৌসুম কোনো ম্যাচ খেলবে না। এতসব যুক্তিতর্কের সমাধানসূত্র খুঁজতেই বুধবারের মিটিং।

অনুশীলনেও আসেননি: আগের দিন করোনা টেস্টে অন্যরা থাকলেও মেসি ছিলেন না। তারপরই শুরু হয় নানা গুঞ্জন। সোমবারের অনুশীলনে কি তাকে পাওয়া যাচ্ছে না? শেষমেশ মিলল উত্তর। বার্সার প্রি-সিজন অনুশীলনেও আসেননি মেসি। দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভ আগস্টে এসে বিস্ম্ফোরিত হলো। ক্লাব প্রধানের খামখেয়ালিপনা, হুটহাট কোচ বদল কিংবা দলবদলে ভুল মেসিকে করে তোলে আরও বেশি আগ্রাসী।

শেষমেশ ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্তও নেন। যদিও গত জুলাই থেকেই তার ক্লাব ছাড়ার কথা আন-অফিশিয়ালি জানতেন বার্সা প্রেসিডেন্ট। সে সময় তিনি কানে নেননি। হয়তো ভেবেছিলেন মেসি ন্যু ক্যাম্প ছাড়বে না। যদিও তখনই তার ক্লাব ছাড়ার কথা শোনা যায়। তাই তো মেসির ‘না’ বলায় বোর্ডের সদস্যরা খুব একটা অবাক হননি। উল্টো মেসিকে আটকানোর পথ খুঁজে রাখেন। তবে মেসির সঙ্গে বার্সার সম্পর্কটা যে তিক্ততার দিকে এগোচ্ছে, সেটাই অনুমেয়। কেবল বার্সা নয়, খোদ লা লিগাও মেসির বিপক্ষে এখন অবস্থান নিলো।

বার্সাকে ডিসলাইক: কেবল বার্সা নয়, স্প্যানিশ লিগের ওপর একের পর এক তারকা আস্থা হারাচ্ছেন। এর আগে নেইমারের সঙ্গেও সম্পর্ক খারাপ করেছিল বার্সা। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো অনেক হতাশা নিয়ে ইতালিতে উড়ে যান। এবার মেসির সঙ্গে যুদ্ধ। যেটা বার্সার জন্যও সুখকর হচ্ছে না। এরই মধ্যে অনেকে মেসির পক্ষ নিয়েছেন, আরতুরো ভিদাল এক প্রকার বার্সাকেই কাঠগড়ায় তোলেন।

এ ছাড়া বার্সার সাবেক তারকারা বলছেন এসব ঠিক নয়। দীর্ঘদিন রাডারে থাকা লাওতারো মার্টিনেজও বার্সাকে ডিসলাইক করে দিলেন। তার নাকি ন্যু ক্যাম্পে আসার ইচ্ছা নেই। এদিকে স্প্যানিশ কয়েকটি মাধ্যমের খবর, কেবল লাওতারো নয়, মেসির এই কন্ডিশনের পর অনেক তারকাই বার্সা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।