মেরু’দণ্ডের হাড়’ক্ষয় কে’ন হয়, কী কর’বেন

অস্টিওপরোসিস বা হাড়ক্ষয় বলতে শরীরের হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়াকে বোঝায়। অস্টিওপরোটিক হাড় অনেকটা মৌচাকের মতো হয়ে যায়। এতে হাড় ঝাঁজরা বা ফুলকো হয়ে যায়। ফলে অতিদ্রুত ভে’ঙে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

হাড়ক্ষয় বেশি হয়ে গেলে হাঁচি বা কাশি দিলেও তা ভে’ঙে যেতে পারে। বয়স ৫০ পেরোনোর পর থেকে শরীরের হাড়’ক্ষয় বা এর ল’ক্ষণগুলো দেখা দিতে শুরু করে।
হাড়’ক্ষয় কেন হয়?

এটি নির্ভর করে আপনার ১৫-২৫ বছরের মধ্যে হাড়ের ঘনত্বের সঙ্গে ক্যালসিয়াম, ফসফেট, কোলাজেন ফাইবারের উপ’স্থিতি কেমন তার ওপর। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে হাড়’ক্ষয় হতে পারে।

মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের এ রোগের ঝুঁ’কি বেশি। যারা নিয়মিত ব্যায়াম না করেন, অতিরিক্ত ওজন, নিয়মিত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ না করেন, ধূম’পায়ী ও মদ্য’পানকারী, ইস্ট্রোজেন, টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কম, যাদের থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েড হরমোনের মাত্রা বেশি এবং

এই রোগের পারি’বারিক ইতিহাসের থাকলে হাড়’ক্ষয়ের ঝুঁ’কি বেশি।আর বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্ব’প্রতি’ক্রিয়া ও ডায়াবেটিস, লিভার, কিডনি রোগে হাড়’ক্ষয় রোগের ঝুঁ’কি বাড়ে।

উপসর্গ
প্রথমত কোনো শারী’রিক ল’ক্ষণ নাও থাকতে পারে। তবে কোমরে, পিঠে বা অন্য কোথাও ব্যথা, বিশেষ করে যা ব্য’থানাশকে কমে না এমন চরিত্রের ব্য’থা হলে বুঝবেন হাড়’ক্ষয় হয়ে গেছে।

কারও কারও দৈ’হিক উচ্চতা কমে যাওয়া, কুঁজো হয়ে যাওয়া বা সামনে ঝুঁকে থাকা। তবে গো’পনে ঘ’টে যাওয়া সবচেয়ে মারা’ত্মক ব্যাপার হলো- মেরু’দণ্ডে ফাটল বা চিড় ধরা এবং ঠুনকো আ’ঘাতেই হাড় ভা’ঙা।

বুঝবেন কীভাবে
অনেক রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার হতে পারে-কিছু ঘনত্ব পরিমাপের জন্য, কিছু আবার ঝুঁ’কি চিহ্নিত করার জন্য। হাড়’ক্ষয় শ’নাক্ত করতে বিএমডি পরীক্ষা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো।

চিকিৎসা
প্রধান ও প্রথম পদক্ষেপ হবে ঝুঁ’কি শ’নাক্তকরণ, স’ম্ভব হলে তা রহিত করা। এর পর যেসব ওষুধ পাওয়া যায় সেগুলোর কোনো একটি নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে প্র’যোজ্য হতে পারে।

যেহেতু হাড়’ক্ষয় একবার হলে আর ক্ষ’য়পূরণ হওয়ার সম্ভা’বনা ক্ষীণ, তাই একে আগভাগেই রোধ করার জাতীয় ও প্রাতি’ষ্ঠানিক কর্ম’সূচি নিতে হবে।এর অংশ হিসেবে কারা কতটুকু ঝুঁ’কিতে আছেন বা কারা ইতিমধ্যে হাড়’ক্ষয়ে ভুগ’ছেন, তা নির্ধা’রণ করতে হবে এবং উপযোগী চিকিৎসা নির্বাচন ও প্রয়োগ করতে হবে।

হাড়’ক্ষয় রোধে কিছু পদক্ষেপ বিবেচনা করা যেতে পারে- নিয়মিত ব্যায়াম, স্টেরয়েডসহ ক্ষ’তিকারক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকা, পুষ্টি নি’শ্চিতকরণ, ধূমপান ত্যা’গ, প্রয়োজনে পরিমিত ক্যালসিয়াম সেবন।লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়; হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ।