মহামারীতে ক্ষমতাসীনরাই ‘সুখে আছে’: রিজভী

করোনাভাইরাস মহামারীতে ক্ষমতাসীনরাই ‘সুখে আছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ মঙ্গলবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস ‘র এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘‘তারা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে ভালো থাকার জন্য। শুনেছি তাদের অনেকেরই বেগমপল্লীতে বাড়ি আছে কানাডায়, কারো নাকি সেকেন্ড হোম মালয়েশিয়ায়। এর মধ্যে দিয়ে তারা অত্যন্ত সুখে আছেন।”

গত এগার বছর ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগের অনেকেই ‘অনেক টাকা করেছেন’ মন্তব্য করে এই বিএনপি নেতা বলেন, “অনেকে টাকা দেশের বাইরে নিয়ে চলে গেছেন। সেগুলো তো সুখে-শান্তিতে থাকার জন্য।”

অন্যদিকে বিএনপি করলে এখন ‘কষ্টের সীমা থাকে না’ মন্তব্য করে রিজভী বলেন, “তার চাকরি থাকবে না, তার জীবন-যাপন থাকবে না, তার কিছুই থাকবে না। সে বাড়িতে থাকতে পারবে না, এলাকায় থাকতে পারবে না, তার পরিবারের সাথে থাকতে পারবে না, ঈদের মধ্যেও বাড়িতে যেতে পারবে না। তাকে অসংখ্য মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া, গ্রাম ছাড়া করা হবে।”
শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর মৃত্যুর কথা তুলে ধরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “কত সংগ্রাম, চরাই-উৎরাই, স্বৈরাচারের কত উৎপীড়ন সহ্য করেছে সে। সেই নেতৃত্বকে আমরা বাঁচাতে পারিনি। এই যে মৃত্যু, এই যে লাশ, এই যে দাফন- এর মধ্য দিয়ে আমাদের জীবন কাটছে।”
রিজভীর দাবি, দেশে এখন ‘সুষ্ঠু’ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের ‘পাত্তা থাকবে না’।

“সুষ্ঠু নির্বাচনকে তারা জাদুঘরে পাঠিয়ে দিয়েছে। আওয়ামী মার্কা নির্বাচন, হাসিনা মার্কা নির্বাচন সেই নির্বাচনে ভোটার দরকার পড়েনি, সেই নির্বাচনকে তারা প্রতিষ্ঠিত করেছে।”

সে কারণেই দেশে এখন নাগরিক স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ‘নেই’ অভিযোগ করে রিজভী বলেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলে তো কথা বলবে। এই যে অন্যায়, অনাচার, এই যে জিকেজি, রিজেন্ট হাসপাতাল, এই যে করোনার জাল সার্টিফিকেট- এগুলোর বিরুদ্ধে মানুষ সোচ্চার হবে, রাস্তায় নামবে।

“সে কারণে গণতান্ত্রিক অধিকার, যে অধিকারের জন্য ছাত্র-জনতা এত রক্ত দিয়েছে, তারা ক্ষমতায় এসে প্রথমেই টার্গেট করে সেই গণতন্ত্রকে।”

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে টেলিফোনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান।

জাসাসের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকনের পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে ইয়ুথ বাবু, রফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম রিপন, মীর সানাউল হক, হাসান চৌধুরী, আরিফুর রহমান মোল্লা, আবদুল হান্নান মাসুম, রফিকুল ইসলাম স্বপন, চৌধুরী আজহার আলী শিবাসানু, মিজানুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।