বগুড়ায় বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার উপরে যমুনার পানি

বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি ১২৮ সেন্টিমিটার থেকে পর্যায়ক্রমে মোট ৫১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টার হিসাব অনুযায়ী এ নদীর পানি কমেছে।

অন্যদিকে বাঙ্গালী নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাত পোনে ৯টার দিকে বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেন বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহকারী প্রকৗশলী মো. হুয়ায়ুন কবির।
যমুনা নদীতে পানি বাড়ায় সারিয়াকান্দি উপজেলার চরাঞ্চলের চালুয়াবাড়ী, কর্নিবাড়ী, কুতুবপুর, চন্দনবাইশা, কাজলা, কামালপুর, রহদহ, বোহাইল ও সারিয়াকান্দি সদরসহ সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার মোট ১৮টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এবং পাট, ধানসহ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দের লাখ মানুষ। পানি বাড়ায় নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
পানিবন্দি এলাকার অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্র, বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ উঁচু জায়গাগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া যমুনা চরের অনেকে ঘর-বাড়ি ভেঙে নিয়ে নৌকায় নদীতীরে চলে আসছেন। বন্যার দুর্যোগ থেকে স্থায়ী সমাধান খুঁজতে তারা চরের পৈত্রিক ভিটেমাটি ছেড়ে আসছেন।

এদিকে বুধবার সারিয়াকান্দি উপজেলার বোহাইল ইউনিয়নের দুর্গম ফৌতিবাড়ী চরের ২৭১ জন বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান। তিনি ত্রাণসামগ্রীর পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ স্বাস্থ্য উপকরণও বিতরণ করেন।

বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহকারী প্রকৗশলী মো. হুয়ায়ুন কবির বাংলানিউজকে জানান, যমুনা নদীতে বিপৎসীমা নির্ধারণ করা হয় ১৬ দশমিক ৭০ মিটার। বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধা ৬টার হিসাব অনুযায়ী নদীর পানি ১৭ দশমিক ৪৭ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অর্থাৎ, বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি জানান, বাঙ্গালী নদীতে বিপৎসীমা নির্ধারণ করা হয় ১৫ দশমিক ৮৫ মিটার। এখন এই নদীতে ১৫ দশমিক ৯০ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অর্থাৎ এ নদীর পানিও বেড়ে বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রভাবিত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার হিসাব অনুযায়ী যমুনা নদীর পানি ১৭ দশমিক ৬৪ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।