প্রতিবন্ধীদের টাকা হজম করতে পারলেন না নারী মেম্বার

কার্ড বাতিলের হুমকি দিয়ে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকায় ভাগ বসিয়েছেন সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মোছা. দোলোয়ারা বেগম। এ ঘটনায় ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করে তিন ভূক্তভোগী।

অভিযোগ খতিয়ে দেখলে ঘটনার সত্যতা পান ইউএনও মোছা. নাজমুন নাহার। পরে ওই নারী ইউপি সদস্যকে প্রতিবন্ধীদের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করেন তিনি। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে অভিযোগকারী তিন প্রতিবন্ধীর হাতে ওই টাকা ফেরত দেন ১নম্বর জয়পুর ইউনিয়নের নারী সদস্য মোছা. দেলোয়ারা বেগম।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, মোছা. রাশেদা বেগম, মো. ইব্রাহীম ও সাজু টুডু নামের তিন ব্যক্তির গত ২৭ আগস্ট প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা জয়পুর ইউনিয়ন হতে টাকা গ্রহণ করেন। পরদিন ওই ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য ভাতার কার্ড বাতিলের হুমকি দিয়ে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে আদায় করেন। অভিযোগে বলা হয়, শুধু ওই তিন জন নয় আরো অনেক ব্যক্তির কাছ থেকে নানা কৌশলে তিনি টাকা গ্রহণ করেছেন।

পরে গত ৩১ আগস্ট উপজেলা নির্বহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. নাজমুন নাহার বরাবর টাকা ফেরত চেয়ে ওই তিন ভূক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করেন।

টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়ে ইউপি সদস্য মোছা. দেলোয়ারা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি ঠিক হয়নি। যাদের টাকা নিয়েছিলাম তাদের টাকা ফেরত দিয়েছি। আগামীতে এমন ঘটনা ঘটবে না। তবে আর কারো কাছ থেকে টাকা গ্রহণের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. নাজমুন নাহার বলেন, জয়পুর ইউনিয়নের তিন ভূক্তভোগীর কাছ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা জোর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে আত্মসাৎ করেন ইউপি সদস্য দেলোয়ারা বেগম। ভূক্তভোগীদের এমন অভিযোগে ওই মহিলা ইউপি সদস্যকে ডেকে ভূক্তভোগীদের কাছ থেকে আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এমন ঘটনা ঘটবে না বলেও তিনি মুচলেকা দিয়েছেন।