পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার

পেঁয়াজের উর্ধ্বমূখী দরে লাগাম টানতে অবশেষে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড(এনবিআর)। আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত নিত্য প্রয়োজনীয় এই মসলা পণ্য বিনা শুল্কে আমদানি করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।

রোববার অর্থমন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পেঁয়াজের অনুৎপাদনশীল সময়ের(লিন পিরিয়ড) জন্য আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ মাসের শুরু থেকেই পেঁয়াজের দাম বাড়ছিল। পণ্যটির থেকে আমদানি নির্ভরতা রয়েছে। মোট যা আমদানি করতে হয়, তার ৯০ ভাগের বেশি আসে পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর দেশের বাজারে এক দিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হয়। যদিও গত কয়েকদিনে তা কিছুটা কমে বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশের পেঁয়াজ চাষীদের নায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা ও আমদানি নিরুৎসাহিত করতে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে পেঁয়াজ আমদানির ওপর ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। সম্প্রতি দাম বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজ আমদানিকারকরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে শুল্ক তুলে নেওয়ার সুপারিশ করেন। ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে বাণিজ্যমন্ত্রণালয় এক চিঠিতে এনবিআরে এই শুল্ক তুলে নেওয়ার সুপারিশ করে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুক্তি, সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজের অনুৎপাদনশীল সময় বা লিন পিরিয়ড। এ সময়ে পণ্যটির আমদানি স্বাভাবিক না থাকলে অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আমদানি যাতে স্বাভাবিক থাকে সেজন্য এই সময়ে শুল্ক প্রত্যাহার করা দরকার। যদিও এনবিআর প্রথমে বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের এ প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।

রাজস্ব আদায়ের এই সংস্থাটি বলছে, পেঁয়াজের ওপর আরোপিত আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করলে দেশের চাষীরা নায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। পাশাপাশি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়বে। এছাড়া পেঁয়াজের ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে না। ফলে এ শুল্ক প্রত্যাহারের যৌক্তিকতা নেই। এছাড়া এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, যেকোনো ক্ষেত্রে সামান্য হলেও শুল্ক থাকা উচিত। এতে ওই পণ্যটি কে কত পরিমাণে আমদানি করেছে তার তথ্য থাকে। কিন্তু শুল্ক না থাকলে কে কতটা আমদানি করছে কেন্দ্রীয়ভাবে তার তথ্য থাকে না। এতে পেঁয়াজের মত পণ্য যা মজুদ করে বাজারে সংকট সৃষ্টি করা হয়ে থাকে তার সুযোগ বিস্তৃত হয়।

এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলে ১৫ সেপ্টেম্বর পুনরায় আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করে এনবিআরকে চিঠি দেয় বাণিজ্যমন্ত্রণালয়। ওই চিঠিতে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করে বাণিজ্যমন্ত্রণালয়। গত পাঁচদিনে এ বিষয়ে এনবিআরের প্রক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা না আসলেও গতকাল অর্থমন্ত্রণালয় শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।

ভারত পণ্যটির রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর দেশের চাহিদা মেটাতে মিয়ানমার, চীন, পাকিস্তান, মিশর, তুরস্ক, নিউজিল্যান্ড, হল্যান্ড থেকে পণ্যটি আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতের তুলনায় এসব দেশ দূরবর্তী হওয়ায় পেঁয়াজ আমদানিতে পরিবহণ খরচ বেশি পড়ে, অপরদিকে পরিবহণের সময় পেয়াজ নষ্ট হয়ও বেশি। ফলে মোট আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এ প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা এনবিআরকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার সুপারিশ করেছেন।