নয়নমনি : জুটি প্রথা শুরু

প্রেমকে সেলুলয়েডের ফিতায় বিভিন্নভাবে বন্দি হতে দেখেছেন দর্শক। কখনো বাবার, কখনো মায়ের আবার কখনো সন্তান বা দেশের প্রতি। তবে প্রেমিক-প্রেমিকার প্রেমের গল্পই বেশি দেখা গেছে। এসব ছবির কোনো কোনোটিতে নায়ক-নায়িকার সফল পরিণতি হয়েছে, আবার কোনো কোনোটিতে মিলন হয়নি। তবে দর্শক দুই ধরনের ছবিই গ্রহণ করেছেন। এমনই এক প্রেমের ছবি ‘নয়নমনি’।

১৯৭৬ সালে মুক্তি এটি। সত্তর দশকে আমজাদ হোসেনের উপন্যাস ‘নিরক্ষর স্বর্গে’ প্রকাশ হয় ‘সিনেমা’ পত্রিকায়। এটিএম শামসুজ্জামান তখন কাহিনিকার ও সহকারী পরিচালক। তিনিই আমজাদ হোসেনকে বলেছিলেন, এই উপন্যাসের ‘কমার্শিয়াল ভ্যালু’ আছে। দ্বিধায় ছিলেন আমজাদ হোসেন, এ ধরনের গল্প সিনেমায় চলবে কিনা।

জানা গেছে সেন্সর প্রিন্ট বের করা পর্যন্ত ছয়-সাত লাখ টাকা লগ্নি হয়েছিল ‘নয়নমনি’তে। ছবিটি প্রায় দুই কোটি টাকা আয় করেছিল। এ সিনেমার প্রতিটি শিল্পীই প্রায় স্মরণীয় অভিনয় করেছেন। একাধিক শিল্পী লাভ করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ফারুক, ববিতা, রওশন জামিল, আনোয়ার হোসেন, সৈয়দ হাসান ইমাম, সুলতানা জামান, টেলিসামাদ একে-অন্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন।

মোড়ল চরিত্রে এটিএম শামসুজ্জামান ছিলেন দুর্র্ধষ। বলা যায়, এ নয়নমনি দিয়ে এটিএম শামসুজ্জামান নামের অসম্ভব শক্তিশালী এক অভিনেতার নতুনভাবে অভ্যুদয় ঘটে। নয়নমনি সিনেমার কাহিনির পরতে পরতে আসে গান, সেসব গান প্রায় সবই মানুষের হৃদয়ছোঁয়া বলা যায়। সুরকার হিসেবে সত্য সাহার সৃজনশীলতা নয়নমনিতে যেন পূর্ণতা লাভ করে।

নয়নমনি সিনেমায় গ্রাম্যজীবনের কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরা হলেও দর্শকের উপভোগের জন্য নানা রকম রসদেরও জোগান ছিল। সংস্কার-আচ্ছন্নতা যে গ্রামের মানুষের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তার নমুনা নইমউদ্দিন নামের এক মানুষকে ঘিরে তুলে ধরেছেন পরিচালক। ছেলে নয়নের জন্মের পরই বাড়িতে আগুন লাগে বলে ওকে অলক্ষুণে অপবাদ দেয় গ্রামের মানুষ। ফলে নইমুদ্দিনের সংসার ভেঙে যায়।