‘দিনশেষে প্রত্যেকটা মানুষই একা’

মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও নিজেকে থীতু করেছেন নাটকেই। নানামাত্রিক চরিত্রে করে অভিনয় স্বকীয়তার স্বাক্ষর রেখেছেন। অভিনয় দিয়ে পৌঁছেছেন সাফল্যের শিখরে। বলছি ছোট পর্দার ‘সুপারস্টার’ জিয়াউল ফারুক অপূর্ব’র কথা যিনি সারাবছরই অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন। দর্শকরাও মুখিয়ে থাকেন বিশেষ দিবসে তার নতুন কাজের অপেক্ষায়। আসছে ঈদের কাজ নিয়ে এখন বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। কাজের ব্যস্ততা ও সমসাময়িক বিষয়ের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনের ‘কিছু কথা’ নিয়ে বাংলাদেশ জার্নালের বিনোদন বিভাগে কথা বলেন তিনি। তাকে নিয়ে লিখেছেন ইমরুল নূর।

|আরো খবর
সাবেক স্ত্রীর নামে গুঞ্জন ছড়ানোয় থানায় জিডি করলেন অপূর্ব
আসছে ঈদে রোহানের ‘মিস্টার এম’
ঈদের ১৫ নাটকে ফারজানা রিক্তা
শোবিজ অঙ্গনটা হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে একটা স্বপ্নের জায়গা। এখানে যারা কাজ করেন তাদেরকে স্বপ্নের মত করে দেখেন এই অঙ্গনের বাইরের মানুষরা। তারা ভাবেন, এখানকার মানুষগুলো আর দশটা মানুষের চেয়ে আলাদা। এই জায়গাতে যারা কাজ করেন তাদেরকে ভালো ও মন্দ দুই অপশনের মধ্যেই রাখেন। কিন্তু একটা সত্য যে, আমরা যারা এই শোবিজ অঙ্গনে কাজ করি তারাও আর দশজনের মতোই মানুষ; কোন বিশেষ কিছু না, একদমই সাধারণ মানুষ আমরা। আমার নিজেরটাই বলি, আমি খুব সাধারণ একটা মানুষ; যে কিনা একটা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছি। আজকে অভিনয় করে বলে হয়তো সাধারণ মানুষগুলোর চেয়ে একটু আলাদা, একটু বাড়তি পরিচিত; জাস্ট এটুকুই।- কথাগুলো বলছিলেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা অপূর্ব।

তিনি আরও বলেন, একজন সাধারণ মানুষ আর একজন তারকার মধ্যে পার্থক্য শুধু এতটুকুই যে, তারকাদেরকে সবাই চেনে; কেউ কেউ হয়তো আবার আইকন হিসেবে দেখে আর সাধারণ মানুষকে শুধু তাঁর আশেপাশের মানুষজনই চিনে। আর বাকিসব বলতে গেলে একই। তারকাদের অনেক অনেক ফ্যান থাকে আবার হেটার্সও থাকে। সেটা যেকোন প্লাটফর্মই হোক শোবিজ, রাজনৈতিক অঙ্গন, খেলাধুলা। একজন সাধারণ মানুষ তাঁর ইচ্ছানুযায়ী সব কিছুই করতে পারে, কিন্তু একজন পাবলিক ফিগার যেটা চাইলেও অনেক সময় করতে পারেন না। তাঁদের ইচ্ছাটা ইচ্ছা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে; পূরণ আর হয় না।

যেমন আমি এখন চাইলেই যেকোন জায়গায় বের হয়ে যেতে পারি না। কোথাও একা কিংবা পরিবার নিয়ে ঘুরতে যেতে ইচ্ছে করলেও পারি না। একটা কিছু খেতে ইচ্ছা করলো বাইরে গিয়ে সেটাও পারি না। আমার খুব ইচ্ছা করলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে তৃপ্তি নিয়ে ফুচকা খাবো কিন্তু সেটা কখনওই সম্ভব হয় না। বের হলেই মনে হয় অনেক জোড়া চোখ আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এরপর আশেপাশে থেকে মানুষজন এসে ঘিরে ধরে অটোগ্রাফের জন্য, ছবি তুলার জন্য। এটা আমাই খারাপ দিক হিসেবে বলছি না; বলছি ইচ্ছাটার কথা। তারা আমাকে ভালোবাসেন বলেই কাছে আসে। এই ভালবাসাটার মূল্যায়ন কথায় বলে বোঝানো সম্ভব না। কিন্তু ওই যে নিজের মনের যে ইচ্ছাটা সেটা আর পূরণ হয় না। পরিবার নিয়ে বা বন্ধু বান্ধবদের সাথে মজা করে সময় কাটানোটা হয়ে উঠে না। মানুষজনের ভীড়ে একজন তারকা তখন সবার মধ্যমণি হয়ে থাকে যার কারণে অন্যান্যরা একটু আনইজিও ফিল করে।

একজন তারকা কি ব্যক্তিগত জীবনে কখনও একাকীত্ব অনুভব করে? অপূর্বর জবাব, দিনশেষে প্রত্যেকটা মানুষই একা। সেটা যে কেউই হোক। একজন সাধারণ মানুষ আর পাবলিক ফিগার কেউই কিন্তু আলাদা না; শুধু তাঁদের কর্মক্ষেত্রটা আলাদা। তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতিটা একটু বেশি। একজন তারকাও রক্তে মাংসে গড়া মানুষ, তারও সুখ, দুঃখ, নিঃসঙ্গতা আছে। সবকিছুই কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের মতো। অন্য দশটা মানুষের মত আমারও কখনও কখনও একা লাগে। জীবনটা বেশ বন্দী বন্দী লাগে। আইয়ুব বাচ্চুর একটা গান আছে ‘আসলে কেউ সুখী নয়’; ঠিক গানের মতই জীবনটা। সুখ হলো একটা আপেক্ষিক বিষয়। এটার কোন গ্যারান্টি নেই। একজন সাধারণ মানুষ বলতে পারবে না যে সে একজন পাবলিক ফিগার থেকে সুখী আবার একজন পাবলিক ফিগারও তা বলতে পারবে না যে, একজন সাধারণ মানুষ থেকে আমি সুখী বা দুঃখী। একাকীত্বটা সবারই আছে। একজন পাবলিক ফিগার বলি, তারকা বলি দিনশেষে আমরা সবাই কিন্তু মানুষ। একজন সাধারণ মানুষের মধ্যে যা যা অনুভূতি আছে তাঁর সবগুলো একজন তারকার মধ্যেও আছে। একজন তারকা- ভিতরে খুবই সাদামাটা একজন সাধারণ মানুষ।

তবে এই ‘তারকা’ খ্যাতির জন্য যখন নিজের ইচ্ছেগুলো পূরণ করতে পারি না তখন খুব বিষণ্ণ লাগে। তখন মনে যে সাধারণ মানুষ হলেই হয়তো ভালো হতো। জীবনে অনেক চরাই উৎরাই আসে আবার সেগুলো কেটে যায়। তবে আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছি।