দফায় দফায় বন্যায় সিলেট অঞ্চলে কৃষির ব্যাপক ক্ষতি

সিলেট অঞ্চলে গত জুন থেকে কয়েক দফা বন্যায় কৃষির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে আউশ, আমন ও শাকসবজির অন্তত ৫০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করেছেন কৃষি কর্মকর্তারা। বিশেষ করে এবার সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১৬ টি উপজেলার এই তিন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঈদের পর থেকে কড়া রোদে নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আবার আমনের বীজতলা তৈরি করতে মাঠে নামতে সাহস পাচ্ছেন না। তাদের ভয় যদি আবার ঢল নামে।
এদিকে সিলেট বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের এডি শ্রীনিবাস দেবনাথ ইত্তেফাককে বলেন, ‘আসাম-মেঘালয়ে বৃষ্টি হলেই সিলেটের নদ-নদী ভরে বন্যা দেখা দেয়।’ তিনি জানান, আগে পাহাড়ে বৃষ্টি হলে ঢল নামতো দেরিতে। এখন বনভূমি উজাড়, নদী ও খাল-বিল ভরাট। বৃষ্টি নামলেই জনপদ ডুবে কৃষি ক্ষেত ভেসে যায়।
সম্ভাবনাময় সিলেটের কৃষির উন্নয়নে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এদিকে সর্বশেষ ঈদুল আজহার আগে আরেক দফা পাহাড়ি ঢলে আমনের বীজতলা ডুবিয়ে দিলে পুনরায় বীজতলা সাজাতে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে কৃষকরা। কয়েকজন আমন চাষি এই প্রতিনিধিকে জানালেন, আমনের বীজতলা তৈরিতে তাদের ভয়। তিনবার ডুবে গেছে বীজতলা। যদি আবার বৃষ্টি নামে-এই প্রশ্ন তাদের।

বন্যায় সিলেট বিভাগে কম করে হলেও প্রায় ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে প্রথম দু‘দফা বন্যায় প্রায় ২৮ কোটি টাকা, সর্বশেষ বন্যায় ২২ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। প্রথম দু‘দফা বন্যায় ২১ হাজার ৮৫৭ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এছাড়া চলমান বন্যায় আরও ২ হাজার ৮১৫ হেক্টর আউশ ও বীজতলা পানির নীচে । তৃতীয় দফা বন্যায় গত সপ্তাহ পর্যন্ত আরও ২ হাজার ৬৭৫ হেক্টর আউশ ধান ও ১৪০ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা নিমজ্জিত হয়।

কর্মকর্তারা জানান, পানি কমতে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত বন্যায় সিলেট অঞ্চলে ফসলের ৫০ কোটি টাকার ওপরে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র মতে, সরকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৬৮০টি বীজতলা প্রণোদনা দিয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, গত ২৫ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত প্রথম দফা বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বেশির ভাগ এলাকা নিমজ্জিত হয়। এতে আউশ ধান, রোপা আমনের বীজতলা ও শাকসবজি পুরোপুরি বিনষ্ট হয়। ঈদের আগে যে বন্যা হয়েছে তার হিসাব-নিকাশ চলছে।

৬৮০টি ভাসমান বীজতলা প্রণোদনার মধ্যে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় ১৬০টি করে মোট ৪৮০ এবং সুনামগঞ্জ জেলায় ২০০ জনসহ মোট ৬৮০ জন কৃষককে বীজতলা প্রদান করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মজুমদার মো. ইলিয়াস বলেন, ‘গত এক মাসে এ অঞ্চলে কয়েক দফা বন্যা আঘাত করে।’ তিনি বলেন, ‘বন্যার পানি এই বাড়ে, এই কমে। তাই বন্যার পর দেখা যাবে ক্ষয়-ক্ষতি ৫০ কোটি টাকা না আরও বেশি।’