ছুটিরদিনের ফুরফুরে মেজাজে কোয়েল

তখনও উপমহাদেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়নি, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সকালে নিজেই সুখবর জানিয়েছিলেন তিনি। ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সপ্তম বিবাহবার্ষিকীতে স্বামী নেসপাল সিং রানের সঙ্গে কোয়েল মল্লিক নিজের একটি ছবি দিয়ে তৈরি পোস্টকার্ডের মাধ্যমেই জানালেন অন্তঃসত্ত্বা তিনি। কোয়েল লিখেছেন, ‘আমার মধ্যে এক নতুন জীবনের হৃৎস্পন্দন শুনতে পাচ্ছি। আমাদের সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছি। এই গ্রীষ্মেই সে আসতে চলেছে।’

গত ৫ মে (মঙ্গলবার) সকালে মল্লিক পরিবারে আসে খুশির খবর। এদিন ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক।

মা হয়ে নিজের গ্ল্যামারকে একেবারে এড়িয়ে গেছেন এমনটা নয়, মায়ের দায়িত্ব পালনের পাশপাশি নিজের গ্ল্যামার ধরে রেখেছেন। যা বোঝা যায় কোয়েলের সোশ্যাল হ্যান্ডেল দেখে। রুবিবার সকালে নিজের বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন কোয়েল। লিখেছেন ‘সানডে।’ ভারতে রবিবারের বিশেষত্ব আমাদের শুক্রবারের মতোই। ছুটিরদিন। ছুটিরদিনে সকলেই ফুরফুরে মেজাজে থাকেন, হয়তো এই মেজাজেই ছবিগুলো পোস্ট করলেন কলকাতার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।

২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পাঞ্জাবের ছেলে নেসপাল সিং রানের সঙ্গে বিয়ে হয় কোয়েল মল্লিকের। নেসপাল ভারতের বাংলা ছবি প্রযোজক। পারিবারিকভাবে কলকাতায় থাকেন অনেক বছর ধরে। কোয়েল ও নেসপালের বিয়ে সে সময়ে টালিউডের আলোচিত ঘটনা ছিল। বাঙালি ও পাঞ্জাবি—দুভাবেই কোয়েলের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল পাঁচ দিনের। আশীর্বাদ, সংগীত, গায়েহলুদ, বিয়ে, বউভাত—সবই ছিল। বিয়ের পর টালিউড ইন্ডাস্ট্রি থেকে নিজেকে খানিকটা গুটিয়ে নিয়ে সংসারে মন দেন এই তারকা।

ভারতের গুণী অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের মেয়ে কোয়েল মল্লিক বাংলা ছবির জগতে এসেছেন ২০০৩ সালে। তাঁর প্রথম ছবি ছিল হরনাথ চক্রবর্তীর ‘নাটের গুরু’। প্রথম নায়ক জিৎ। প্রথম ছবিতেই সুপারহিট ছিলেন কোয়েল। সেই ২০০৩ সাল থেকে টানা ১৩ বছর তিনি বাংলা ছবিকে একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়ে গিয়েছেন। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর ভেতর ‘বলো না তুমি আমার’, ‘দুই পৃথিবী’, ‘পাগলু’, ‘১০০% লাভ’, ‘হেমলক সোসাইটি’, ‘পাগলু টু’, ‘সাত পাকে বাঁধা’, ‘বলো না তুমি আমার’, ‘জ্যাকপট’, ‘নবাব নন্দিনী’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। বাণিজ্যিক ধারার পাশাপাশি ‘দেবীপক্ষ’ বা ‘হেমলক সোসাইটি’র মতো ছবিতেও অভিনয় করেছেন।