চুলের যত্নে করণীয়

কন্ডিশনার ব্যবহার করার পর আঁচড়ানো চুলে সমানভাবে কন্ডিশনার ছড়িয়ে পড়ার ফলে চুল সুবিন্যস্ত থাকে। ভিজা চুল আঁচড়ানো উচিত। শীতকালে চুলকে আকর্ষণ করে, ফলে চুল আঁচড়াতে অসুবিধা হতে পারে। তাই তখন কিছু কন্ডিশনার মেখে নিয়ে চুল আঁচড়ানো উচিত যাতে সমস্যা না হয়। যাদের ব্রাশ ব্যবহার করার অভ্যাস তারা মোটা দাঁড়ার চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াবেন।
চুলের পরিচর্যার জন্য যে শুধুমাত্র চিরুনিই ব্যবহার করতে হবে এমন কোন কথা নেই। তবে ব্রাশ ব্যবহারের সুবিধা হচ্ছে এর ফলে চুল মসৃণ থাকে। চুলের গোড়ায় যে তেল জমা হয়ে থাকে ব্রাশ ব্যবহারের ফলে তা সারা মাথায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে চুল মসৃণ থাকে। এখন কি ধরনের ব্রাশ কাদের জন্য ভালো হবে সে ব্যাপারে আলোচনা করছি।
যাদের চুল পাতলা তারা নরম ব্রাশ ব্যবহার করবেন। আর মোটা চুলের গঠন যাদের অথবা চুল যাদের কোকড়ানো তারা শক্ত শলার ব্রাশ ব্যবহার করবেন। তবে ব্রাশ হিসেবে জন্তু- জানোয়ারের পশম দিয়ে তৈরী ব্রাশই উত্তম।
নিয়মিত মাথার ত্বক ম্যাসেজ করা উচিত। এতে মাথার ত্বকের রক্ত চলাচল বেড়ে গিয়ে চুলের পুষ্টি যোগাতে সহায়ক হয়। যাদের চুল শুষ্ক তারা প্রতিদিন একবার করে ম্যাসাজ করবেন। স্বাভাবিক চুল যাদের তারা একদিন পর পর ম্যাসেজ করবেন আর তৈলাক্ত চুল যাদের তারা পাঁচ থেকে দশ মিনিট সময় নিয়ে ম্যাসেজ করলেই যথেষ্ট।
কন্ডিশনিং করা চুলের যত্নের জন্য একটি অপরিহার্য বিষয়। কারণ ইত্যাদি ব্যাপারে যতœবান হওয়া সত্ত্বেও প্রখর রোদ্রতাপ, শুষ্ক আবহাওয়া, ধুলো-ধুলো, লবণাক্ত পানি ইত্যাদি বিভিন্ন প্যাক্টন চুলের প্রথম স্তর বা ফিউটিকলের ক্ষতি করতে পারে। অন্যদিকে চুলের শুষ্ক ও রুক্ষতা, চুল ভেঙ্গে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যাযুক্ত চুলের জন্যও কন্ডিশনিং অপরিহার্য। কন্ডিশনিং করার পর চুলের হারানো জৌলুস ফিরে আসতে পারে।
অনেক সময় চুলের নিয়মিত কন্ডিশনিং করার পরও চুলের উজ্জ্বলতা ও মসৃণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে না। তখন বুঝতে হবে যে চুলের আরো পুষ্টির প্রয়োজন রয়েছে আর তাই তখন নিবিড় কন্ডিশনিং করতে হবে। স্বাভাবিক ও তৈলাক্ত চুল যাদের তারা সপ্তাহে একদিন অথবা দু’সপ্তাহে একদিন নিবিড় কন্ডিশনিং করবেন। যাদের চুলে সমস্যা রয়েছে যেমন শুষ্ক চুল, আগা ফেটে গিয়েছে কিংবা চুলের উজ্জ্বলতা নেই তারা সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন ডিপ কন্ডিশনিং করবেন।
শরীরের ত্বককে ধুলোবালি, ময়লা ইত্যাদি থেকে পরিষ্কার করার জন্য যেমন সাবানের প্রয়োজন তেমনি চুলকে পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর করার জন্য নিয়মিত চুলের ব্যবহারের নিয়ম, উপকারিতা, কার্যকারিতা, অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে।
করার পর চুল শুকানো দরকার। অনেকেই চুল শুকানোর সঠিক পদ্ধতি না জানার কারণে চুলের ক্ষতি করে থাকেন। গোসল করার পর তোয়ালে বা গামছা দিয়ে ঘসে ঘসে চুল মুছবেন না। আঙ্গুলের সাহায্যে ভিজা চুলের জট ছাড়িয়ে শুকনো তোয়ালে বা গামছা দিয়ে চুল জড়িয়ে রাখবেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে চুলের বাড়তি পানিটুকু শুষে নেয়ার পর চুল খুলে দিয়ে পিঠের উপর ছড়িয়ে দিতে হবে।
পুরুষদের সময় তোয়ালে বা গামছা দিয়ে আলতো করে চুল মুছবেন, তারপর প্রাকৃতিক হাওয়ায় শুকিয়ে নিবেন। চুলের ময়লা, মরা কোষ, ঘাম নিঃসৃত বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত পদার্থ, ধুলো-ধুঁয়োতে আক্রান্ত চুলকে পরিষ্কার রাখা যায়। চুল উদ্দেশ্য সাধিত হলেও বেশিরভাগ ব্যবহারকারী শুধু পরিষ্কার করতেই সন্তুষ্ট নন। সেই সাথে টান চুলও যেন হয় উজ্জ্বল, ঝকমকে ও দীপ্তিময়। চুল পরিষ্কার করতে গিয়ে চুলের সব তৈলাক্ত পদার্থ পরিষ্কার করে ফেললে কিন্তু চুলের উজ্জ্বলতা কমে গিয়ে চুল হয়ে পড়বে নিষ্প্রভ ও অমসৃণ থাকে। একটি হচ্ছে তেলের প্রতি আসক্তি ও অন্য উপাদানটি হচ্ছে পানির প্রতি আসক্তি।
অন্যদিকে পানির প্রতি আসক্তির ফলে চুল থেকে তৈলাক্ত পদার্থ পরিষ্কার করে ফেলে। ফোমি পদার্থ চুলকে ঘন, নরম ও মোলায়েম করার জন্য পদার্থ, বিশেষ যত্নের জন্য পদার্থ সংরক্ষণ, রং সৃষ্টিকারী পদার্থ ও সুগন্ধি।
ব্যবহৃত হয় এগুলো সবই নিসথে টিক এবং এগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করতে পারি। বেশিরভাগ ডিটারজেন্ট রয়েছে। কেনো একক ডিটারজেন্ট চুলকে পরিষ্কার কন্ডিশনিং অথবা ইত্যাদি অবস্থা সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়। পরবর্তী গ্রুপে রয়েছে এমকোটোরিক। এগুলো চোখে কোনো সমস্যা ব্যবহৃত হয়। এগুলো ব্যবহারে চুল বেশ ফুলে থাকে এবং চুলকে সহজেই বিন্যস্ত করা যায়। ফলে এগুলো যেসব চুলে কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয় সেসব চুলে এবং সরু চুলের ক্ষেত্রে আদর্শ নির্বাচন। তৃতীয় গ্রুপে রয়েছে সব ধরনের লরেট হালকা পরিষ্কার করবে। ভালোভাবে কন্ডিশনিং এবং চুলকে ফোলা অবস্থায় রাখবে। চুলে সৃষ্টিকারী পদার্থ পানিতে বুদবুদ সৃষ্টি করে করে সেগুলো ব্যবহারে চুল ভালো পরিষ্কার করে ফেনা তৈলাক্ত পদার্থের সাথে সংযুক্ত হয়ে পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে ফেনা হয়। পরের বার ধুতে গেলে দেখা যাবে মাথায় তৈলাক্তর মতো পদার্থ রয়েছে। ফলে বেশি ফেনার সৃষ্টি হবে অনায়াসেই। চকচকে ও ঘনকারী পদার্থ ব্যবহারে আসলে চুলের পরিষ্কারকরণে কোন ভূমিকাই নেই। এগুলো আসলে ব্যবহারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই ব্যবহৃত হয়ে থাকে বাণিজ্যিক স্বার্থের ঠিক নয়। অনেকে তলার চুলকে উজ্জ্বল ও রয়েছে তার ব্যবহার চুল উজ্জ্বল ও বিন্যস্ত করা যায়। এগুলো শুষ্ক, ভগ্ন ও ওষুধ/ কেমিক্যাল কন্ডিশনার আসলে ফ্যাটি এলকোইল ফ্যাটি ইস্টার ভেজিটেবল অয়েল মিনারেল অয়েল যার ব্যবহারে চুলে এক প্রকার আবরণ সৃষ্টি করে চুলকে নিষ্প্রভতা ও অপরিচ্ছন্নতার হাত থেকে রক্ষা করে, যা কিনা সাবান ব্যবহারে ক্ষার পানি ব্যবহৃত হয়। ক্ষার পানি ব্যবহৃত হয়। ক্ষার পানি ও বার সাবান ব্যবহারে চুলের প্রদাহ ও চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে। তোয়ালে বা গামছা দিয়ে ঘসে ঘসে চুল তোয়ালে বা গামছা দিয়ে চুল জড়িয়ে নেয়ার পর চুল খুলে দিয়ে পিঠের উপর সুগন্ধী ও বিশেষ কেয়ার উপাদান সন্নিবেশিত করা হয়। উপাদানগুলো হচ্ছে গমের রয়েছে ভিটামিন-ই, প্যানফিনল, ভিটামিনবি কমপ্লেক্সেও উপাদান যেমন-প্যানটিন
তাছাড়া প্রোটিন সমৃদ্ধ, কোপাজেন, প্লাসেন্টা কেমিক্যাল সানস্ক্রিনও ব্যবহার হয়ে থাকে। ব্যালান্সড বলে দাবী করে থাকে কিছু কিছু ক্ষর জাতীয়। এগুলো ব্যবহারে চুল ফোলা ফোলা ভাব ফুটিয়ে তুললেও চুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে যাদের চুল সুস্থ’ চুলের সমস্যা নেই তাদের বেলায় ব্যবহারে তেমন সমস্যা নাও হতে পারে। আবার যাদের চুল ভগ্ন অথবা চুলে কেমিক্যাল পদার্থ ব্যবহৃত হচ্ছে তারা এ বিভিন্ন প্রকৃতিতে যেমন-তরল, জেল, ক্রিম, স্প্রে এবং পাউডার ইত্যাদি বৈচিত্র্যে পাওয়া তৈলাক্ত রাসায়নিক ব্যবহৃত চুলের জন্য), এতে রয়েছে লরিল সালফেট ডিটারজেন্ট। এগুলো ব্যবহারে চুল পরিষ্কার হয় এবং অল্প মাত্রায় কন্ডিশনিং করা যায়। এগুলো সব প্রাপ্ত বয়স্কদের যাদের চুল মোটা ও মাধ্যম মাত্রায় তৈলাক্ত তাদের ক্ষেত্রে উপযোগী। তবে যাদের চুল সরু ও আবন্যস্ত তাদের জন্য উপযোগী নয়।
এতে রয়েছে লরিল সালফেট অথবা সালফোসাকসিনেট ডিটারজেন্ট। এগুলো বড়দের জন্য এবং যাদের চুল ময়লাযুক্ত ও তৈলাক্ত তাদের চমৎকার ভূমিকা রয়েছে, সাথে রয়েছে হালকা মাত্রার কন্ডিশনিং এনাবলী। এগুলো ব্যবহারে চুল হালকা মাত্রায় পরিষ্কার হয়। কিন্তু ভালো কন্ডিশনিং ক্ষমতা রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বয়স্কদের বেলায় চমৎকার কাজ করে, বিশেষ সরু চুল যাদের রয়েছে তাদের চুল বিন্যস্ত অতিরিক্ত কন্ডিশনিং থাকার ফলে চুল ক্ষতিগ্রস্ত করার বেলায় খুব একটা কার্যকরী নয়। উপরন্তু কন্ডিশনার চুলের শ্যাফটে তৈলাক্ত ভাব সৃষ্টি করতে পারে। যেসব উপাদান এই জাতীয় প্রাণীজ প্রোটিন, গ্লিসারিন, ডাইমেথিকোন, সাইমেথিকোন, প্রপ্রাইলিন গ্লাইকল ইত্যাদি। অন্য যেসব প্রোটিন এতে রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বিয়ার, ডিমের কুসুম, ল্যানলিন, কোলেস্টরিল, লেসিরিন ইত্যাদি। এসব উপাদান সন্নিবেশিত হওয়ার ফলে এগুলোকে যারা চুলের কল্প বা বিভিন্ন ডাই ব্যবহার করে থাকেন। অথবা চুলে কোন কারণে কেমিক্যাল ব্যবহার করতে হয় কিংবা পদার্থ ও চুলে স্থায়ী ঢেউ খেলানোর জন্য সলিউশন ব্যবহার করে থাকেন অথবা চুলকে স্থায়ীভাবে খাড়া রাখার জন্য তাদের হয়ে থাকে।
টিপস এগার
চুলের ক্ষতি রোধে যা করা দরকার। যেমন চুল বারে বারে বা অতিরিক্ত পরিষ্কার করলে, হেয়ারডাই ব্যবহার করলে ও শক্তভাবে চুল আঁচড়ালে কিংবা ব্রাশ করলে।
অন্যদিকে যাদের চুল বড় রয়েছে তাদের বেলায়, যাদের খাটো চুল রয়েছে তাদের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হালকা মাত্রার পরিষ্কার ক্ষমতা ও বেশি মাত্রার কন্ডিশনারযুক্ত।
-প্রফেসর ডা. এম. ফেরদৌস
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (চর্ম ও যৌন)
কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
চেম্বার : ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক এন্ড ইমেজিং সেন্টার
বাড়ী নং-৪৮, রোড নং-৯/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯
সিরিয়ালের জন্য:
ফোনঃ ৯১২৮৮৩৫-৭, ৯১২৬৬২৫-৬
মোবাইল: ০১৭১৭-৩৫১৬৩১, ০১৭৬৩-২৮৭৪০১, ০১৭৬৩-২৮৭৪০২।