চুরি, না অন্যকিছু

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ-র‌্যাব। তাদের মধ্যে তিনজনই স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাকিদের একজন ইউএনওর বাড়ির প্রহরী ও বাকি দু’জন রঙমিস্ত্রি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় তিন যুবলীগ নেতাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্নিষ্ট একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সমকালকে জানান, এখন পর্যন্ত যাদের আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে কতজন ঘটনাস্থলে ছিল তা পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে সিসিটিভিতে যে দু’জনকে দেখা গেছে তারা আটকদের মধ্যে রয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবি করছে, পরিকল্পিত চুরি করার টার্গেট নিয়ে ইউএনওর বাসায় গিয়েছিল তারা। তবে টের পেয়ে যাওয়ায় ইউএনও এবং তার বাবার ওপর হামলা করা হয়েছে। রঙমিস্ত্রির হাতুড়ি হামলায় ব্যবহার করা হয়। দু’জন রঙমিস্ত্রিও সেই অপারেশনে অংশ নেয়। আটকরা এখন পর্যন্ত চুরির কথা বললেও এর বাইরে হামলার অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে অনেকে শুরু থেকে সংশয় প্রকাশ করেন। এছাড়া নিছক চুরির উদ্দেশ্যে মাঠ প্রশাসনের সর্বোচ্চ ব্যক্তির বাসায় ঢোকার সাহস কীভাবে দুর্বৃত্তরা পেল সেই প্রশ্নও উঠেছে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুরে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৩ অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস বলেন, ‘এ ঘটনার মূল আসামি আসাদুল ইসলাম। সে দাবি করেছে, পরিকল্পিতভাবে চুরির উদ্দেশ্য নিয়েই ইউএনওর বাসায় তারা ঢুকেছিল। চুরির উদ্দেশ্যে ওই হামলা হয়েছিল। তবে এটা তার নিজস্ব বক্তব্য। এটা নিছক চুরি, নাকি অন্য কোনো ঘটনা এই প্রশ্নের সমাধান বা উপসংহারে পৌঁছতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।
র‌্যাব ছায়াতদন্ত করছে। আগামীতেও করবে। তারা এই পর্যায়ে বলছে না এটা কেবলই চুরির ঘটনা। তদন্ত শেষে উপসংহারে আসা যাবে।’
ঘটনার পর সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয়- অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। গতকাল দিনাজপুরে একটি অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীও বলেন, এ ঘটনায় অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে সরকার আন্তরিক। যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়ন করছেন, তাদের ওপর হামলার যথাযথ বিচার করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
যারা আটক :নৃশংস হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ-র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থা মাঠে নামে। গতকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় ৬ জনকে আটক করা হয়। তারা হলো- উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও ওসমানপুর সাগরপাড়া এলাকার আবুল কালামের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন, ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও গোলাম মোস্তফার ছেলে মাসুদ রানা, রানীগঞ্জ কশিগাড়ী এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আসাদুল ইসলাম, ইউএনওর বাসার প্রহরী নাহিদ হোসেন পলাশ, চকবামনদিয়া বিশ্বনাথপুর এলাকার বাসিন্দা রঙমিস্ত্রি নবীরুল ইসলাম ও রঙমিস্ত্রি সান্টু চন্দ্র দাস। আটকদের মধ্যে আসাদুল, নবীরুল ও সান্টু চন্দ্র দাসকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যাদের ছাড়া হয়েছে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় তাদের সন্দেহাতীত সংশ্নিষ্টতার প্রমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নেই। তবে ছেড়ে দেওয়া হলেও তারা নজরদারির মধ্যেই থাকবে।
যেভাবে অভিযান :পুলিশ-র‌্যাব সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে হাকিমপুর, বিরামপুর, ঘোড়াঘাটে পুলিশ-র‌্যাবের যৌথ অভিযান চালানো হয়। আবার কোথাও পৃথক অভিযানও চালানো হয়। হাকিমপুর উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় বোনের বাসা থেকে আটক হয় আসাদুল ইসলাম। আর জাহাঙ্গীর হোসেনকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এদিকে গতকাল দুপুর ১২টায় মাসুদ রানাকে নিজ বাড়ি থেকে এবং দুপুর ২টার দিকে নবীরুল ইসলামকে চকবামনদিয়া বিশ্বনাথপুর গ্রাম থেকে আটক করা হয়। এর আগেই প্রহরী নাহিদ হোসেন পলাশকে জিজ্ঞাসাবাদকালে তার অসংলগ্ন কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় তাকে আটক করা হয়। নবীরুলের কাছ থেকে একটি হাতুড়ি জব্দ করা হয়। পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের প্রহরী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটকদের মধ্যে জাহাঙ্গীর বেশ বেপরোয়া। নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকের সঙ্গে তার যোগসূত্র থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে এসব ঘটনায় থানায় একাধিক মামলা আছে। মামলা রয়েছে জাহাঙ্গীরের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত মাসুদ রানা ও সহযোগী আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধেও। মাসুদ রানা এলাকায় মাদকের ব্যবসা করত। তাদের বিরুদ্ধে ঘোড়াঘাট পৌর মেয়রের ওপর হামলার ঘটনা ও মাদকের বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
জাহাঙ্গীর হোসেন ২০১৭ সাল থেকে ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যও ক্ষুব্ধ। এর আগে গত ৭ জুন তাকে বহিস্কারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের ডিও লেটার ও জেলা যুবলীগের সুপারিশ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে তখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিন যুবলীগ নেতা বহিস্কার :ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবাকে গুরুতর জখম করার অভিযোগে আটক দুই যুবলীগ নেতাকে বহিস্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবলীগ। এ ছাড়া দিনাজপুর জেলা যুবলীগ স্থানীয় আরেক নেতাকে বহিস্কার করে। কেন্দ্রীয় যুবলীগ যে দুই নেতাকে বহিস্কার করে তারা হলো- ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন ও সদস্য আসাদুল ইসলাম। গতকাল শুক্রবার বিকেলে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, যুবলীগ একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। এখানে কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজের ঠাঁই নেই। যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের নির্দেশে ঘোড়াঘাট ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় আটক জাহাঙ্গীর হোসেন ও আসাদুল ইসলামকে বহিস্কার করা হয়েছে।
দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ বলেন, জাহাঙ্গীর যুবলীগের আহ্বায়ক হলেও সেই কমিটি হয়েছিল তিন বছর আগে। সাধারণ নিয়মে তিন মাসের বেশি সময় হলে সেই কমিটির কার্যকারিতা থাকে না। এরপরও তাকে বহিস্কারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও নিয়ে সুপারিশসহ কেন্দ্রে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কারণ তাদের বহিস্কার করার ক্ষমতা জেলা কমিটির নেই। বিকেলে যুবলীগের সভাপতি বলেন, আসাদুল কমিটির কেউ নয়। সিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুদ রানাকে জেলা যুবলীগ বহিস্কার করা হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, যুবলীগের জাহাঙ্গীর, মাসুদ ও আসাদুল করোনাকালীন মেয়র ও তার সঙ্গীদের ওপর হামলা করে। তারা মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। এর আগে হিলিতে তাকে মাদকসহ আটকও করা হয়েছিল। যুবলীগের পদ আগলে ধরে আড়ালে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। শুধু তাই নয়, জমি দখল, জনগণের ওপর অত্যাচার করাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে আটটি মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, মাসুদ রানা ঘোড়াঘাটে মাদক সম্রাট। জাহাঙ্গীরের ছত্রছায়ায় থেকে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করত। আর জাহাঙ্গীরের কর্মকাণ্ড ছিল জমি দখল, ইয়াবা ও মাদক ব্যবসা, মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজের আধিপত্য বিস্তার করা।
কশিগাড়ী গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, রাস্তার গাছ কাটায় বাধা দেওয়ায় তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। চাটশাল বিলপাড়া গ্রামের আনারুল ইসলাম জানান, রাস্তার দু’ধারে থাকা ইউক্যালিপটাস গাছ কাটতে বাধা দেওয়ায় জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
ঘোড়াঘাট পৌর মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলন বলেন, আমি জানতে পেরেছি, জাহাঙ্গীর ও আসাদুলকে আটক করা হয়েছে। যাদের আটক করা হয়েছে তাদের দ্বারাই করোনাকালীন ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে আমি হামলার শিকার হয়েছিলাম। এ ব্যক্তিরাই আমার ওপর হামলা করেছিল এবং এ ঘটনায় আমার করা মামলারও আসামি তারা। ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
তবে আসাদুল ইসলামের বোন রত্না বেগম বলেন, আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে একটি মামলা আছে। ঘোড়াঘাট পৌর মেয়র তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ইউএনওর ওপর হামলার খবর পাই। রাতে আবার কয়েকজন পুলিশ বাড়িতে আসে, বাড়ি তল্লাশি করে। কিন্তু ভাইকে না পেয়ে কোথায় জিজ্ঞেস করলে আমরা হাকিমপুর উপজেলায় বোনের বাড়িতে গেছে বলে জানাই। পরে পুলিশ সেখান থেকে তাকে আটক করে।
র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলন : র‌্যাব-১৩-এর অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস জানান, ইউএনওকে হত্যাচেষ্টা মামলার সন্দেহভাজন প্রধান আসামি আসাদুল ইসলাম, সান্টু ও নবীরুল। এ ঘটনায় জড়িত বলে এরই মধ্যে তারা দায় স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, চুরির জন্য তারা ভেন্টিলেটর দিয়ে ঘরে ঢোকে। তবে ওয়াহিদা খানম জেগে গিয়ে চুরিতে বাধা দেওয়ায় তার ওপর হামলা চালান। এ ঘটনার মূল হোতা আসাদুল। আসাদুলের ভাষ্য মতে, পরিকল্পিতভাবে চুরির উদ্দেশে তারা ইউএনওর বাসায় ঢোকে। ইউএনওকে মূলত আঘাত করেছিল নবীরুল। ঘটনার সময় একটি লাল রঙের টি-শার্ট পরে ছিল আসাদুল। র‌্যাব সে টি-শার্ট উদ্ধার করেছে। আসাদুলের দাবি অনুযায়ী এটি ছিল নিছক চুরির ঘটনা। তবে এর নেপথ্য কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হলে আরও সুগভীর তদন্ত করতে হবে। রেজা আহমেদ ফেরদৌস আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জাহাঙ্গীরের কোনো সংশ্নিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-১৩-এর অধিনায়ক বলেন, সর্বমোট ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল।
দোষীদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন :এদিকে হামলার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে ঘণ্টাব্যপী মানববন্ধনে দিনাজপুর নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, মহিলা পরিষদের সভাপতি কানিজ রহমান, সংস্কৃতিকর্মী বাসুদেব শীলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। অফিসার্স ক্লাবের আয়োজনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুরাতন উপজেলা পরিষদ গেটে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
ওয়াহিদা খানমের বাবা শঙ্কামুক্ত নন : রংপুর অফিস জানায়, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাবা শেখ ওমর আলীর অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলায় কেবিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শনিবার তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. তোফায়েল হোসেন ভূঁইয়া জানান, বর্তমানে তার অবস্থা ভালো নেই। তিনি লাফ দেওয়ার কারণে হাড় এবং রগে আঘাত পেয়েছেন। ফলে তার বুক থেকে পা পর্যন্ত অবশ হয়ে গেছে। তিনি ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারছেন না। কবে নাগাদ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবেন তা ঠিকমতো বলা যাচ্ছে না।
বুধবার গভীর রাতে ঘোড়াঘাটের ইউএনওর সরকারি বাসভবনের দ্বিতীয় তলায় বাথরুমের ভেন্টিলেশন ভেঙে বাড়িতে ঢুকে ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর অবস্থায় ওয়াহিদাকে প্রথমে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে এবং পরে হেলিকপ্টারে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে আনা হয়।