কার কতটুকু ভিটামিন ‘ডি’ প্রয়োজন, কতক্ষণ থাকবেন রোদে

করোনাভাইরাসের কারণে এখনো ঘরবন্দি অনেক মানুষ। সাধারণ ছুটি ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও করোনা আতঙ্কে মানুষ ঘর থেকে তেমন একটা বের হন না। এমন অবস্থায় অনেকে ঘরের মধ্যে থাকার কারণে গায়ে রোদ-মাখার সুযোগ হয়নি। এতেই বেড়েছে সমস্যা।

ভালো করে ভেবে দেখুন তো, আপনার কোমর, পা, ঘাড়ে কি অনবরত একটা ব্যথা থেকেই যাচ্ছে? দীর্ঘসময় ল্যাপটপে কাজ করার ফলে অসম্ভব ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন? শরীরচর্চা করলেও হাড়ে-পেশীতে টান ধরছে। খাবার হয়তো ভালোই খাচ্ছেন! আপনার কিন্তু সময় এসেছে একটু নিজেকে সময় দেওয়ার। তা নাহলে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়ে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

ভিটামিন ডির অভাব নয়তো? রোদে একটুও না বেরনোর ফলে অনেক মানুষের এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। কয়েক মাসে ভিটামিন ডির ঘাটতি সংক্রান্ত সমস্যাও বেড়ে গিয়েছে। ভিটামিন ডির অভাব হলে কেবল মাত্র হাড় ক্ষয়ে যাওয়া বা ব্যথা-বেদনা নয়, তৈরি হতে পারে আরও বড় সমস্যা।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, পেশি নাড়াচাড়া করতেও প্রয়োজন হয় ভিটামিন ডির। এমনকী এর সাহায্য ছাড়া মস্তিষ্ক থেকে সারা শরীরে বার্তা পর্যন্ত পাঠাতে পারে না স্নায়ু। করোনা আবহে বারবার জোর দেওয়া হচ্ছে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতার উপর। রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও ভিটামিন ডি ছাড়া ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাসদের প্রতিহত করা দুঃসাধ্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট বলছে, সারা বিশ্বে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ভিটামিন ডির অভাবে ভুগছেন। গ্লোবাল হেলথ প্রবলেম বলা হচ্ছে ভিটামিন ডি-জনিত ঘাটতিকে।

ভিটামিন ডি ঠিক মতো তৈরি না হলে ক্যালসিয়াম কাজ করতে পারে না। ফলে থাবা বসায় ছোটদের রিকেট থেকে শুরু করে বড়দের অস্টিওম্যালশিয়া, অস্টিওপোরেসিস প্রভৃতি নানাবিধ রোগ। অন্যদিকে, ভিটামিন ডির সঙ্গে একাকিত্বের সংযোগের কথা বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্রে উঠে এসেছে। ভিটামিন ডি থ্রির অভাবে শরীরে সেরোটোনিন হরমোনের ক্ষরণ ঠিকমতো হয় না, আমেরিকার কয়েকটি গবেষণাপত্রে এমনটা প্রকাশিত হয়েছে।

শুষ্ক-মরা চামড়ার সমস্যা অনেকেরই রয়েছে। অনেক ক্রিম-তেল ব্যবহার করেও চামড়া অসম্ভভ শুকিয়ে যায় অনেকের। ফলে, অনেকেরই ড্রাই স্কিন, চুলকানি, এগজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো রোগও হয়। শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক না থাকা এর কারণ হিসেবে থাকার পাশাপাশি শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি এর কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে ভিটামিন ডির অভাব হচ্ছে কিনা তা জানার সবচেয়ে ভালো উপায় আপনার চামড়ার দিকে নজর দেওয়া। যদি ত্বক অসম্ভভ শুষ্ক হয় তবে বুঝবেন শরীরে ব্যাপক হারে কমে গিয়েছে ভিটামিন ডি। ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই প্রয়োজন এই ভিটামিন। অনেকেই ভাবেন, শুধু ভিটামিন ই তেই ত্বকের পরিচর্যা সম্ভব। কিন্তু ভিটামিন ডির অভাবে ত্বক একেবারে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
কার শরীরে কতটুকু ভিটামিন ডি প্রয়োজন?

কোন বয়সে শরীরে কতখানি ভিটামিন ডি প্রয়োজন। ভারতের ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন বোর্ড আন্তর্জাতিক এককে (আইইউ) জানিয়েছে সেই সীমা। বলা হয়েছে, জন্ম থেকে ১২ মাস : ৪০০ আইইউ, ১ থেকে ১৩ বছর : ৬০০ আইইউ, ১৪ থেকে ১৮ বছর : ৬০০ আইইউ, ১৯ থেকে ৭০ : ৬০০ আইইউ, তার ঊর্ধ্বে: ৮০০ আইইউ এবং গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী তরুণী ও মহিলাদের জন্য : ৬০০ আইইউ। চিকিৎসকরা বলছেন, রোদ থেকে পাওয়া ভিটামিন ডির কোনো বিকল্প নেই। তাই অসূর্যম্পশ্যা না হয়ে রোজ বরং খানিকটা রোদ মেখে নিন।

কী ভাবে ভিটামিন ডি শরীরে পাওয়া যাবে?

প্রায় ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ ভিটামিন ডি আসে সূর্যালোক থেকে। ত্বকের মাধ্যমে শোষণ হয় সেটি। প্রতিদিন ২০ মিনিট অন্তত রোদে থাকলে ৪০ শতাংশ ভিটামিন ডি শোষিত হয় ত্বকে। কিন্তু লকডাউনে এই রুটিন মানতে পেরেছেন কজন? বাইরে বেরনো কমে গিয়েছে। এই কারণে প্রতিদিন কিছুক্ষণ হলেও রোদে থাকতে হবে।

ছাদ না হলেও বারান্দা বা জানালা দিয়ে যে রোদ আসে, তা শরীরে লাগানো আবশ্যক। ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে। দুধ, ছানা এ জাতীয় খাবারে ভিটামিন ডি রয়েছে। প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্টস খাওয়া যেতে পারে, তবে তার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।