করোনায় মস্তিষ্কে আঘাত, সদ্যোজাতকে চিনতে পারছেন না মা!

গর্ভবতী অবস্থায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনের ব্রুকলেড বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারের নার্স সিলভিয়া লেরয়। সম্প্রতি সন্তান জন্ম দিলেও সন্তানকে চিনতে পারছেন না তিনি, এমনকি তার গর্ভাবস্থার কথাও মনে করতে পারছেন না। ৩৫ বছর বয়সী এই নারী হাসপাতালের লেবার এবং ডেলিভারি ওয়ার্ডে কর্মরত রয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়, সিলভিয়া লেরয় যখন ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতী, তখন তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। সিলভিয়ার গর্ভাবস্থার ৩০ সপ্তাহে তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার পর সি-সেকশনের মাধ্যমে তাকে সন্তান প্রসব করানোর জন্য ইমার্জেন্সি রুমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকরা মনে করেছিলেন সিলভিয়ার গর্ভের সন্তানের কোনো ক্ষতি হতে পারে।

সিলভিয়াকে ইমার্জেন্সি রুমে নেওয়ার চার মিনিট তার মস্তিস্কে কোনো অক্সিজেন যায়নি। এর ফলে তার ‘অ্যানোক্সিন ব্রেইন’ ইনজুরি হয়ে যায়। মস্তিস্কে এই আঘাত তার মস্তিষ্কের মোটর ফাংশন থেকে শুরু করে স্মৃতিতেও প্রভাব ফেলেছে। তবে সিলভিয়ার মেয়ে এস্থার সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় জন্ম নেয়।

সিলভিয়ার বড় বোন শিরলি জানিয়েছেন, ওই দুর্ঘটনার পর থেকে তার বোন ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না। সিলভিয়া তার তিন মাসের মেয়ে এস্থারকে চিনতে পারছেন না। শুধু তাই নয়, তিনি তার স্বামী জেফ্রির প্রথম সন্তান তিন বছরের ছেলে জেরেমিয়াকেও মনে করতে পারছেন না। সিলভিয়া তার গর্ভাবস্থার কথাও সম্পূর্ণ ভুলে গেছেন।

তিনি জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে সিলভিয়ার পরিবারের সব সদস্যরাই সবসময় তার পাশে থেকে তাকে সমর্থন করে চলেছেন। গত এপ্রিলে তারা সিলভিয়ার চিকিৎসার খরচ তুলতে ‘‌গো ফান্ড মি’ নামে একটি তহবিলও খুলেছেন যাতে এখন পর্যন্ত ৯ লাখ ২৮ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান উঠেছে।