করোনায় মধু ও কালোজিরায় বিস্ময়কর সাফল্য

করোনাভাইরাসে থমকে দাড়িয়ে সমগ্র বিশ্ব। মানুষ ক্রমশ অসহায় হয়ে পড়ছে প্রকৃতির এই অমোঘ নিয়মের কাছে। যদিও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন করোনা প্রতিরোধে কার্যকরী প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে। অনেক প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন আবিস্কার করলেও তার সহজলভ্যতা এবং কার্যকারীতা নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের নিরন্তর গবেষণার পর এবার কালোজিরা এবং মধুতেই মুক্তি মিলতে পারে বলে দাবী সৌদী গবেষক দলের।

তাদের মতে, মধু এবং কালোজিরার নির্ধারিত পরিমাপ অনুযায়ী সেবনে মুক্তি মিলবে করোনার ভয়াল থাবা থেকে।

মধু এবং কালোজিরা নিয়ে পাবলিক হেলথ জার্নালে মিলেছে এসব বিস্ময়কর তথ্য। যদিও মধু এবং কালোজিরা নিয়ে সকল রোগের শেফার বিষয়ে বলা হয়েছে প্রায় চোদ্দশত বছর পূর্বেই।

প্রাচীনকাল থেকে কালিজিরা মানবদেহের নানা রোগের প্রতিষেধক এবং প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এ জন্যই এই জিনিসটিকে অনেকে কালিহিরা বলেন। এটি শুধুই একটি মসলা নয়। এর কাজ শুধু খাবারের স্বাদ বৃদ্ধিতেই নয়, আয়ুর্বেদিক ও কবিরাজি চিকিৎসায়ও কালিজিরার ব্যবহার হয়। কালিজিরার বীজ থেকে একধরনের তেল তৈরি হয়, যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে আছে ফসফেট, আয়রন এবং ফসফরাস। এ ছাড়া কালিজিরা বিভিন্ন রোগের হাত থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়।
বিস্ময়কর এই জিনিসটির প্রশংসা করেছেন খোদ রাসুল (সা.) হাদিসে রয়েছে -আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, কালিজিরায় সকল প্রকার রোগের উপশম আছে, তবে ‘আস্সাম’ ব্যতীত। আর ‘আস্সা-ম’ হলো মৃত্যু। এর ‘আল হাব্বাতুস্ সাওদা’ হলো (স্থানীয় ভাষায়) ‘শূনীয’ (অর্থাৎ কালিজিরা)। (মুসলিম, হাদিস : ৫৬৫৯)
মধু এবং কালোজিরা সংক্রান্ত নানা প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারী বিভাগের সহকারী সার্জন ডা. গওছুল আযম জানান, মদিনার তায়েব ইউনিভার্সিটি হতে প্রকাশিত পাবলিক হেলথ জার্নালে উঠে এসেছে মধু এবং কালোজিরার নিয়মতান্ত্রিক সেবনে মুক্তি মিলবে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) থেকে। গবেষণায় জানানো হয়, প্রায় ৯২-১০০ ভাগ রোগীর উপর এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব।

জার্নালে প্রকাশিত প্রস্তুত প্রক্রিয়া অনুযায়ী – ১ চামচ কালোজিরা (২গ্রাম), ১ চামচ মধু এবং ১ চামচ ক্যামোমিল এর মিশ্রনে মুক্তি মিলবে করোনা ভাইরাস হতে। তাছাড়া অধিকতর কার্যকারিতার জন্য এর সাথে ১ কাপ কমলার জুস এবং ২০০ মিলিগ্রাম পানির মিশ্রনে সহজেই তেরী করতে পারা যাবে কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে শক্তিশালী এই ওষুধ।

জার্নালে প্রকাশিত সেবনবিধি অনুযায়ী – প্রথম ৭ দিন এই মিশ্রণ দিনে ৩ থেকে ৪ বার। পরবর্তীতে দিনে একবার করে সেবন করতে হবে।

ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটে থাকা রোগীদের জন্য (যারা মুখে খাবার গ্রহণ করতে পারবেন না) নাকে ব্যাবহৃত নলের মধ্যে দিয়ে এই তরল পাকস্থলীতে দেয়া সম্ভব। কোন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এই প্রক্রিয়ায় করোনার মুক্তি সম্ভব বলে দাবী তাদের।

এছাড়া, এই মিশ্রণ গরম করে ভাপ তৈরী করে নিলেও ভালো কাজ দিবে মনে করেন ডাঃগওছুল আযম।