করোনাভীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সশরীরে জাতিসংঘে যেতে আগ্রহী ট্রাম্প

করোনাভাইরাস ভীতির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের সকল নেতাই জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে নিজ নিজ বক্তব্য ভার্চুয়ালে প্রদানের সিদ্ধান্ত জানালেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাচ্ছেন, সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করতে।
উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখে শুরু হয়ে সেই শীর্ষ বৈঠক চলার কথা ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত কেলী ক্রাফ্ট ৩০ জুলাই এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে বলেন, এবারের সাধারণ অধিবেশন হবে জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে। তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম।
উল্লেখ্য, এবারের অধিবেশন ভাচুয়াল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ। সেভাবেই সবকিছু সাজানো হচ্ছে। মহাসচিবের সচিবালয় থেকে জানা গেছে, ১৯০টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট/প্রধানমন্ত্রী/রাজা/রাণীরা তাদের বক্তব্য ভিডিওতে ধারণ করে আগেই পাঠিয়ে দেবেন জাতিসংঘ সদর দফতরে। এমনি অবস্থায় স্বাগতিক রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প বরাবরের মতই করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ‘তামাশা’ করতে চাইছেন বলে কূটনীতিকরা মন্তব্য করেছেন।
করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুতে শীর্ষে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র। নাম গোপন রাখার শর্তে জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ সংবাদদাতাকে বলেছেন, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন স্থগিতের আহবান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। করোনার কারণে এ আহ্বান জানান তিনি। অথচ সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তিনি দলবল নিয়ে জাতিসংঘে হাজির হতে চাচ্ছেন-এ কেমন ধরনের ‘মশকরা’?

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের মোট বাজেটের ২২% দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ দম্ভে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছেন ট্রাম্প। তার কথা অনুযায়ী কাজ করা হয় না বলে চলতি অর্থ বছরের জন্যে জাতিসংঘকে যে অর্থ প্রদানের কথা, তা এখনও দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

রাষ্ট্রদূত ক্রাফ্ট বলেছেন, আসন্ন অধিবেশনকে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে মানবাধিকার এবং জবাবদিহিতার স্বার্থে। এজন্যে বিশ্বনেতারা উপস্থিত না হলে সমসাময়িক পরিস্থিতির আলোকে যেসব সাইড ইভেন্ট হবার কথা সেগুলোও হয়তো ঝুলে থাকবে। সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি টিজানি মুহাম্মদ-বন্দে এবং জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সর্বাত্মকভাবে সচেষ্ট রয়েছেন করোনা মহামারির সংক্রমণ কোনভাবেই যেন জাতিসংঘের কার্যক্রমকে স্পর্শ করতে না পারে।