করোনাকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ‘ইমিউনিটি পিঠা’

করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত কোন ওষুধ বা টিকা আবিষ্কার হয়নি। তবে এর আক্রমন থেকে বাঁচতে যে পদ্ধতিটি এখন পর্যন্ত স্বীকৃত, তা হলো ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। এই চিন্তা থেকেই পুষ্টিবিদদের পরামর্শ আর নিজেদের গবেষণার মাধ্যমে যশোরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আইডিয়া’র কর্মীরা তৈরি করেছেন ‘ইমিউনিটি পিঠা’। যে পিঠায় আছে ডুমুর, কালোজিরা, আদা, অলিভ অয়েল, চিকেন মিটসহ ১২টি ঔষধি মসলা।

আইডিয়া’র প্রধান উপদেষ্টা যশোর সরকারি এমএম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন বলেন, সারা পৃথিবীতেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মহামারি রূপ নিয়েছে। এ অবস্থায় সহজে দেশের মানুষের ইমিউনিটি কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আইডিয়ার কর্মীরা চিন্তা করছিলেন। আমাদের দেশের মানুষের পিঠার প্রতি বড় ধরণের আকর্ষণ রয়েছে।

তাই স্বাদ, গন্ধ অটুট রেখে যদি পিঠার মধ্যেই ইমিউনিটি বাড়ানোর উপাদানগুলো যোগ করে দেওয়া যায়, তাহলে খাওয়ার মজার সাথে ইমিউনিটি বাড়ানোর কাজটাও সহজে হয়ে যায়। সে চিন্তা থেকেই পুষ্টিবিদদের পরামর্শ নিয়ে তিন ধরণের পিঠা তৈরি করছে আইডিয়া। যার মধ্যে থাকছে পিঠার অন্যান্য সাধারণ উপকরণের পাশাপাশি ডুমুর, কালোজিরা, আদা, রসুন, এলাচ, মেথি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, চারুচিনি, আমলকি, তুলসি পাতা, সজিনার পাতা ও এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ ওয়েল। এসব উপাদানগুলো আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বহু ধরণের উপকার করে। প্রতি পিস পিঠার দাম রাখা হচ্ছে মাত্র ২০ টাকা, যা আইডিয়া যশোরের পিঠা পার্ক থেকে যে কেউ সংগ্রহ করতে পারবেন। এই পিঠা থেকে আইডিয়া কোন অর্থনৈতিক বেনিফিট পেলে সেটাও মানুষের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের প্রভাষক শুভাশীষ দাস শুভ বলেন, প্রাচীনকাল থেকে প্রমাণিত যে নিয়মিত শরীর চর্চা ও সুষম খাবারের সাথে কিছু মসলা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আইডিয়ার তৈরি ইমিউনিটি পিঠায় যে উপাদানগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো খুব সহজেই ইমিউনিটি তৈরির কাজটা করবে।