ওই ‘ভুল’ করতে চান না টাইগার বোলাররা

ক্রিকেট বলে লালা বা থুতুর ব্যবহার নিষিদ্ধ। আর ক্রিকেটে ফেরার পর ইংলিশ পেসাররা বলে ঘামও ব্যবহার করেন না। মাথায় কাপড়, হাতে ঘাম মোছার ব্যান্ড নিয়ে খেলতে দেখা যাচ্ছে জিমি অ্যান্ডারসন-স্টুয়ার্ট ব্রডদের। অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের বলা হয়েছে, অনুশীলনে ঘাম ব্যবহার করলেও সেটি যেন মাথা, মুখ ও ঘাড়ের ঘাম না হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বোলারদের অবস্থা কী?

বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়েরা অনুশীলন করছেন এক মাসের বেশি হলো। লালা ব্যবহার না করে কীভাবে বল উজ্জ্বল রাখা যায়, পেসারদের অনুশীলনে থাকছে সেই চেষ্টা। ইংলিশ পেসারদের মতো হয়তো কপালে কাপড় বেঁধে বোলিং করতে দেখা যায়নি কাউকে, তবে তাদের লালা এড়িয়ে চলার চেষ্টাটা স্পষ্ট। ট্রাউজারে ঘষে বল উজ্জ্বল রাখছেন পেসাররা।

তোয়ালে দিয়ে মুছেও কাজ সারার চেষ্টা করছেন। অনেকে আবার ঘামও লাগাচ্ছেন বলে।
পেসার আবু জায়েদ রাহী বুধবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ১২ ওভার বল করেন। এ সময় একবারও লালা ব্যবহার করেননি বলে। জায়েদ বলেন, ‘যতটা পারছি, এটা এড়িয়ে চলছি। তবু মাঝে-মধ্যে ভুলে হাত চলে যাচ্ছে। চেষ্টা করছি, যেন এই ভুলটা না হয়।’ আইসিসি’র নতুন নিয়ম, কোনো বোলার এক ইনিংসে ভুল করে দু’বারের বেশি বলে লালা লাগালে শাস্তি হিসেবে ব্যাটিং দলকে পাঁচ রান দেয়া হবে। সাম্প্রতিক ক্রিকেটে ইংলিশ ব্যাটসম্যান ডম সিবলি, পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমিরকে বলে লালা মেশাতে দেখা গেছে। তবে পরে তারা জানান এমনটি করেছেন তারা ভুলক্রমে। কাউকে শাস্তিও পেতে হয়নি। জায়েদ বলেন- ‘একটা ভয়ও কাজ করছে। ম্যাচে প্রথমে সাবধান করা হবে ভুল করলে। এরপর তো শাস্তি! আশা করি, ম্যাচে ভুল হবে না।’

শ্রীলঙ্কায় তিন টেস্টের সিরিজে খেলা হবে লাল কুকাবুরা ক্রিকেট বলে। বাংলাদেশ দলের বোলাররা অনুশীলন করছেন অস্ট্রেলিয়ায় প্রস্তুত কুকাবুরা বলেই। নতুন কুকাবুরা বলে সুইং পেতে সমস্যা হচ্ছে না। রিভার্স সুইংয়ের জন্য বল তৈরি হয়ে গেলে আর সমস্যা নেই। সমস্যা হতে পারে অল্প পুরনো বলে। সুইং বোলার শফিউল ইসলাম বলেন, ‘ম্যাচ না খেললে পরিষ্কার বোঝা যাবে না। ম্যাচে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বল করতে হবে। তখনই বোঝা যাবে, নতুন নিয়মের প্রভাব কতটা পড়বে। ধরুন, পেসাররা নতুন বলে বল করে গেল। স্পিনাররা এলো। এরপর আবার পেসাররা এলো বোলিংয়ে। তখন কেমন হয় বোলিং, সেটা দেখতে হবে।’

লালা-থুতুর সমস্যা শুধু পেসারদের নয়। বল বাতাসে ঘোরাতে স্পিনারদেরও বলের এক পাশ উজ্জ্বল রাখতে হয়। কিন্তু সে জন্য তাদেরও এখন ট্রাউজারে বল ঘষেই চেষ্টাটা করতে হচ্ছে। কারণ, ঘাম ব্যবহারে সমস্যাও দেখছেন তারা। তরুণ অফ স্পিনার নাঈম হাসান বলেন, ‘ড্রিফট পেতে সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু কিছু করার নেই। ট্রাউজারে ঘষে কতটুকুই উজ্জ্বল করা যায় বল! আর ঘাম ব্যবহার করলে বল দ্রুত পুরনো হয়ে যায়, নষ্ট হয়ে যায়।’