একজনকে ডাউন, একজনকে ধরেছি স্যার

‘একজনকে ডাউন করেছি, একজনকে ধরেছি স্যার।’ কক্সবাজারে টেকনাফে মেজর (অব,) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার পর এভাবে পুলিশ সুপারকে ঘটনা জানান পরিদর্শক লিয়াকত আলী। এই ঘটনায় একটি মোবাইল কথোপকথন ফাঁস হয়েছে। এতে স্পষ্ট, ওসি প্রদীপ কুমার দাশের নির্দেশেই সিনহা মো. রাশেদ খানকে গুলি করেছিলেন বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী।

রাত ৯টা ২৫ থেকে ৩০ মিনিটের দিকে এসআই লিয়াকত মেজর সিনহাকে গুলি করার পরই কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনকে ফোন করেন লিয়াকত। ফোনে লিয়াকত এসপি মাসুদকে বলেন, ‘একজনকে ডাউন করেছি, একজনকে ধরেছি স্যার।’ ওসি প্রদীপ এসপি মাসুদকে ফোন করে জানান— সিনহা মো. রাশেদ খানকে তার নির্দেশেই গুলি করেন লিয়াকত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এসপি এবিএম মাসুদ হোসেনের সঙ্গে ওসি প্রদীপ ও এসআই লিয়াকতের মোবাইলে কথোপকথন ।
প্রদীপ: আদাব, স্যার
মাসুদ: কী, আপনি এমন কি হইছে, বলেন…
প্রদীপ: স্যার, লিয়াকতরে গুলি করছে নাকি স্যার, আমি যাচ্ছি ওখানে…
মাসুদ: কে?
প্রদীপ: ঐ যে স্যার লিয়াকত স্যার… ইয়াতে, চেকপোস্টে…
মাসুদ: হ্যাঁ
প্রদীপ: একটা গাড়িকে সিগন্যাল দিছে, সিগন্যাল দেওয়ার পরে গাড়ি থেকে তাকে পিস্তল দিয়ে গুলি করছে। ওই সময় আমি তাকে বললাম, ঠিক আছে তুমিও তাড়াতাড়ি ওকে গুলি করো। সেও নাকি তাকে গুলি করছে স্যার, আমি যাচ্ছি স্যার ওখানে স্যার…
মাসুদ: যান, যান

মেজর সিনহাকে গুলি করার পর এসআই লিয়াকত ফোন করেন এসপি মাসুদকে।

লিয়াকত: আসসলামু আলাইকুম, স্যার
মাসুদ: বলো
লিয়াকত: এখানে একটা প্রাইভেট কার আছে স্যার, ঢাকা মেট্রো লেখা। আর্মির পোশাক-টোশাক পরা। সে ওই বোরখা খুলে ফেলছে। পরে যখন তাকে চার্জ করছি, সে মেজর পরিচয় দিয়ে গাড়িতে চলে যেতে চাইছিলো। পরে অস্ত্র তাক করছিলো, আমি গুলি করছি স্যার। একজন ডাউন করছি, আরেকজন ধরে ফেলছি স্যার। স্যার আমি কি করবো স্যার? আমাকে পিস্তল তাক করছে, পিস্তল পাইছি তো স্যার।

মাসুদ: আচ্ছা, ঠিক আছে, তুমি… তোমারে গুলি করছে, তোমার গায়ে লাগে নাই, তুমি যেইটা করছো, সেটা তার গায়ে লাগছে…
লিয়াকত: লাগছে স্যার, লাগছে স্যার।
তবে এ বিষয়ে কোন কিছু বলতে রাজি হননি পুলিশ সুপার।

কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর পুলিশ তল্লাশিচৌকিতে গত ৩১ জুলাই রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান (৩৬)।