আমরা কেউই শতভাগ সঠিক না

বললেন সাকিব আল হাসান ‘আপনাকে সত্য বলতে শিখতে হবে। নিজেকে নিজের কাছে সৎ হতে হবে। মানুষকে কখনো মিথ্যা বলা বা কিছু লুকিয়ে রাখা যাবে না। যা হয়েছে তা তো হয়েই গেছে। মানুষ মাত্রই ভুল করে। আমরা কেউই শতভাগ সঠিক না।’
আমরা কেউই শতভাগ সঠিক না
ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পরও সেটা গোপন করার মতো তিনটি অভিযোগে সাকিবকে অভিযুক্ত করে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দু-বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। যার এক বছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। সাজার সব শর্ত মেনে চললে চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর মাঠে ফিরবেন। চলতি বছরের শুরু থেকেই পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় আছেন এই টাইগার অলরাউন্ডার। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেখানে নিজের নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে নানা কথা বলেছেন সাবেক টাইগার অধিনায়ক। দীপ দাশগুপ্তর উপস্থাপনায় ক্রিকইনফোর সিরিজ ক্রিকেটবাজিতে সাকিব বলেছেন, দেশের অন্য ক্রিকেটাররা যেন তার ভুল থেকে শিক্ষা নেন। সাকিব আল হাসান স্বীকার করে নিচ্ছেন যা করেছেন, বড্ড ভুলই করেছেন। যে কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে। নিজের করা ভুল তথা জুয়াড়িদের প্রস্তাব গোপনের ভুল থেকে অনেক কিছু শেখার আছে বলে মনে করেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘আপনাকে সত্য বলতে শিখতে হবে। নিজেকে নিজের কাছে সৎ হতে হবে। মানুষকে কখনো মিথ্যা বলা বা কিছু লুকিয়ে রাখা যাবে না। যা হয়েছে তা তো হয়েই গেছে। মানুষ মাত্রই ভুল করে। আমরা কেউই শতভাগ সঠিক না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ভুল থেকে আপনি কতটুকু শিক্ষা নিয়েছেন। তাহলেই আপনি অন্যদের ভুল থেকে দূরে থাকতে বলতে পারবেন, তাদেরকে সতর্ক করতে পারবেন যেন ওই পথে না হাঁটে।’ ব্যক্তিগতভাবে তিনি চান না আর কেউ এই ভুল করুক। এ বিষয়ে সাকিব বলেন, ‘এই ভুল অন্য কেউ করলে আমি শিখতে পারতাম। যেহেতু আমার সঙ্গে হয়েছে কাজেই অন্যরা এর থেকে শিক্ষা নেবে।’ ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে টাইগার অলরাউন্ডার বলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই আমি সত্য বলেছি। আমার কাছে যারা বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করেছেন তাদের কাছে কিছুই লুকাইনি। সবকিছুর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছি। আমার ভুল হয়েছে এবং আমি চাই না আমার মতো আর কেউ এমন ভুল করুক। আমি এর জন্য ক্ষমা চেয়েছি, এখন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। আমি চাই আমার ভুল থেকে সবাই শিক্ষা নিয়ে এই পথে পা না বাড়ায়।’ খেলোয়াড়ি জীবনে একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছেন সাকিব। ২০০৯ সালে প্রথমবার অধিনায়ক হয়ে বোর্ড প্রধান, নির্বাচক ও গণমাধ্যমের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন। মূলত সে কারণেই ২০০৯-১০ সালে তাকে পুরোপুরিভাবে অধিনায়কত্ব দেয়া হয়নি। সাকিব মনে করেন সেই অভিজ্ঞতাই তাকে মানুষ হিসেবে পাল্টে দিতে সাহায্য করেছে। ‘মনে করি বিতর্ক আমার জীবনে পরিপূরক। খুব অল্প বয়সেই আমার জীবনে দায়িত্ব চেপেছে। তাই ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক। মাত্র ২১ বছর বয়সে অধিনায়ক হয়েছি। অনেক ভুল করেছি। মানুষজন আমাকে নিয়ে অনেক কিছু চিন্তা করে। জানি আমার ভুলটা কোথায়, আবার কিছু জায়গায় আমাকে ভুলও বোঝা হচ্ছে। উপমহাদেশে বিতর্ক অবিচ্ছেদ্য অংশ।’ ‘অবশ্যই যতটা সম্ভব আমার ভুলগুলো কমাতে চেষ্টা করব। আমি এখন বিবাহিত, দুটি মেয়ে আছে। এখন খেলা আর জীবন সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখি। ২০ বছর বয়সি সাকিবের চেয়ে আমি এখন অনেক পরিণত। অনেক পাল্টে গেছি। মানুষ এখন আমাকে আর আগের মতো ভুল করতে দেখবে না। আমার দুই মেয়ে আমার জীবন সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছে।’ ২০১১ সালে সম্পূর্ণভাবে নেতৃত্ব পাওয়া সাকিবের দলে ছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা ও মোহাম্মদ আশরাফুল। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে মাশরাফির চোটের কারণে প্রথমবারের মতো দলকে নেতৃত্ব দেন সাকিব। ২০১১ সালে বিশ্বকাপের আগে পাকাপাকিভাবে নেতৃত্ব পেলেও মাত্র ৭ মাস পর জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারের পর সরিয়ে দেয়া হয় তাকে। নেতৃত্বে সিনিয়রের কাছ থেকে কখনোই সমস্যার সম্মুখীন হননি বলে জানিয়েছেন সাকিব, ‘কখনোই সিনিয়র ক্রিকেটারদের থেকে সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। এটা কোনো সমস্যাই ছিল না। আমরা জয় পাওয়ার জন্য তখন লড়াই করছিলাম, সুতরাং আমাদের তখন চিন্তা ছিল জয় পাওয়া। মাঠের বাইরে অবশ্যই অসংখ্য ঝামেলা থাকে। কিন্তু যদি মিডিয়ার সামনে এ নিয়ে মুখ খোলেন, সেটা ভিন্ন খাতে চলে যাবে। আমার তখন সেই শিক্ষাটা দরকার ছিল, এগুলো আমাকে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছে।’